দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে মাটির ব্যাংকে ধাতব মুদ্রা জমিয়ে অবশেষে নাতনিকে ব্যতিক্রমী উপহার দিলেন বগুড়ার এক ব্যক্তি। দাঁড়িপাল্লায় নাতনিকে তুলে সমান ওজনের ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম ধাতব মুদ্রা উপহার দেন নানা আবদুল কাদের। শুক্রবার (২৮ মার্চ ২০২৬) বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় তাঁর নিজ বাড়িতে এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৩ বছর আগে আবদুল কাদেরের একমাত্র মেয়ে ফেরদৌসী খাতুন কন্যাসন্তানের জন্ম দিলে তাঁর স্ত্রী পাতা বেগম আনন্দিত হয়ে ঘোষণা দেন—নাতনির বিয়েতে দাঁড়িপাল্লায় মেপে সমান ওজনের ধাতব মুদ্রা উপহার দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে আবদুল কাদের ও তাঁর স্ত্রী মাটির ব্যাংকে কয়েন জমাতে শুরু করেন।
তবে দুই বছর আগে পাতা বেগম মারা যাওয়ায় তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। পরে কয়েক মাস আগে নাতনি নাঈমা খাতুনের (২৩) বিয়ে হলেও তখনো প্রয়োজনীয় পরিমাণ ধাতব মুদ্রা জমা হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর সেই ইচ্ছা পূরণ করতে সম্প্রতি বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আবদুল কাদের।
অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া–প্রতিবেশীসহ প্রায় ১৫০ জন অতিথির জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। সবার সামনে দাঁড়িপাল্লার এক পাশে নাতনি নাঈমাকে বসানো হয় এবং অন্য পাশে ধাতব মুদ্রা দিয়ে ওজন মাপা হয়। এতে মোট ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম কয়েন সমান হয়, যা উপহার হিসেবে নাতনিকে দেওয়া হয়।
পেশায় গাড়িচালক আবদুল কাদের জানান, তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে ফেরদৌসী বেগমের বিয়ে হয়েছে সোনাতলা উপজেলায়। জামাতা লিমন হোসেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় মুদিদোকানের ব্যবসা করেন। অন্যদিকে ছেলে তানজির হোসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। নাতনি নাঈমার স্বামী হৃদয় হোসেন বগুড়া শহরের বেজোড়া এলাকায় রাজমিস্ত্রীর ঠিকাদারি পেশার সঙ্গে যুক্ত।
দাঁড়িপাল্লায় নাতনিকে তুলে কয়েন মেপে দেওয়ার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আবদুল কাদের বলেন, ‘নাতনিকে উপহার দিতে ২৩ বছর ধরে মাটির ব্যাংকে এই দেড় বস্তা ধাতব মুদ্রা জমিয়েছি। নাতনির বিয়ের আগেই স্ত্রী পাতা বেগম মারা যাওয়ায় তাঁর ইচ্ছা পূরণ হয়নি। আর দেড় বছর আগে নাতনির বিয়ের সময় মাটির ব্যাংকে প্রয়োজনীয় ধাতব মুদ্রা না জমায় তখনো স্ত্রীর ইচ্ছা অপূর্ণই থেকেছে। তবে নাতনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় আর বিলম্ব করেননি। নানির ইচ্ছা অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লার একদিকে নাতনিকে তুলে অন্য পাল্লায় সমান ওজনের কয়েন (৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম) উপহার দিয়েছি। নানি বেঁচে থাকলে তার ইচ্ছা পূরণের এই উপহার প্রদানে সবচেয়ে বেশি খুশি হতো।’
আবদুল কাদেরের ভাতিজা ও বগুড়া জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাসান বলেন, ‘সেখানে প্রীতিভোজের পর সবার সামনে দাঁড়িপাল্লার একদিকে নাঈমাকে তোলা হয়। অন্য পাল্লায় দেড় বস্তা ধাতব মুদ্রা মেপে দেওয়া হয়। ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম মুদ্রা উপহার দিতে হয়েছে আমার চাচাকে। বেশির ভাগ ছিল ৫ টাকার মুদ্রা। এই উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে এসে সবাই খুব খুশি।’
নানার কাছ থেকে এমন ব্যতিক্রমী উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত নাতনি নাঈমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘নানির শখ ছিল আমার বিয়েতে এ ব্যতিক্রমী উপহার দেওয়ার। বিয়ের সময় নানার সামর্থ্য ছিল না, তবে নানির ইচ্ছা আজ পূরণ করলেন তিনি। নাতনির প্রতি নানার এ ভালোবাসায় অভিভূত আমি। নানি বেঁচে থাকলে আরও বেশি ভালো লাগত।’
সিএ/এমই


