চীনের ইউনান প্রদেশের পাহাড়ঘেরা ইউহু গ্রাম এখন ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। একসময় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এই গ্রাম আজ গ্রামীণ পর্যটন ও সাংস্কৃতিক পুনরুজ্জীবনের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
লিজিয়াং শহরের কাছাকাছি ইউলং নাশি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের বাইশা টাউনশিপে অবস্থিত এই গ্রামটি জেড ড্রাগন স্নো মাউন্টেনের পাদদেশে গড়ে উঠেছে। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমিত সম্পদের কারণে দীর্ঘদিন গ্রামবাসীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় ছিলেন।
ইউহুর ইতিহাস নাশি জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংগীত, ধর্মীয় আচার এবং ‘ডংবা’ নামে পরিচিত এক বিশেষ চিত্রলিপি রয়েছে। গ্রামের পাথরের ঘরগুলো ঐতিহ্য ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে তৈরি, যা স্থানীয় জ্ঞানের এক অনন্য উদাহরণ।
গ্রামের কেন্দ্রস্থলে থাকা ইউহু লেক, যা ‘ড্রাগন মেইডেন লেক’ নামেও পরিচিত, ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মিং রাজবংশের আগেই এটি কৃত্রিমভাবে নির্মিত হয়েছিল এবং একসময় রাজকীয় অবকাশকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখন এই হ্রদের পানিতে তুষারঢাকা পাহাড়ের প্রতিফলন পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
বিশ শতকের শুরুতে উদ্ভিদবিদ ও নৃতত্ত্ববিদ জোসেফ রকের দীর্ঘ বসবাস ও গবেষণার মাধ্যমে ইউহু আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায়। তার গবেষণা ও আলোকচিত্র বিশ্বের সামনে এই অঞ্চলের সংস্কৃতি তুলে ধরে।
২০০৪ সালের পর স্থানীয়দের অংশগ্রহণে পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়ন শুরু হয়। বাড়িগুলোকে অতিথিশালায় রূপান্তর, ছোট ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামের অর্থনীতি ধীরে ধীরে বদলে যায়। ২০২৫ সালে এখানে প্রায় ১২ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে, যা স্থানীয় আয়ে বড় পরিবর্তন আনে।
বর্তমানে ইউহু শুধু একটি ভ্রমণকেন্দ্র নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের একটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিএ/এমআর


