ইসলামে জুমার দিনকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোরআন ও হাদিসে এই দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা এই দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন, দুই. আল্লাহ তাআলা এই দিনে আদম (আ.)-কে জমিনে অবতরণ করিয়েছেন, তিন. এই দিনে আদম (আ.)-কে মৃত্যু দিয়েছেন, চার. এই দিনে এমন সময় আছে যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছুই প্রার্থনা করবে তিনি তা দেবেন। যতক্ষণ না সে হারাম কিছু প্রার্থনা করবে না, পাঁচ. এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮৯৫)
জুমার দিনের অন্যতম নির্দেশনা হলো আজান হওয়ার পর সব ধরনের দুনিয়াবি কাজ, বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ব্যবসা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝো।’ (সুরা : জুমুআ, আয়াত : ৯)
খুতবা চলাকালে অন্যের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে যাওয়াও নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি বসো, তুমি লোকদের কষ্ট দিচ্ছ।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১১১৮)
খুতবার সময় অমনোযোগী হওয়া বা অনর্থক কাজে জড়ানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন যখন তোমার সাথিকে চুপ থাকো বলবে, অথচ ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তাহলে তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (বুখারি, হাদিস : ৯৩৪)
এছাড়া খুতবার সময় ঘুমানো, অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসা এবং শুধুমাত্র জুমার দিন নির্দিষ্ট করে রোজা রাখা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে।
এসব নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে জুমার দিনের মর্যাদা রক্ষা করা এবং অধিক সওয়াব অর্জন করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


