কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি দ্রুত মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। লেখালেখি, পড়াশোনা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে ChatGPT, যা তৈরি করেছে OpenAI। তবে এই প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি অতিরিক্ত বা অসচেতন ব্যবহারে কিছু নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই অনেক সময় ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারে। ব্যবহারকারীরা যাচাই ছাড়া এসব তথ্য ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়, যা বিশেষ করে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সহজে উত্তর পাওয়ার প্রবণতায় অনেকেই নিজস্ব চিন্তাভাবনা বা বিশ্লেষণ করার অভ্যাস কমিয়ে ফেলতে পারেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে এর অপব্যবহারও বাড়ছে। কিছু শিক্ষার্থী নিজের কাজ বা অ্যাসাইনমেন্ট এআই দিয়ে তৈরি করিয়ে জমা দিচ্ছেন, যা শেখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এছাড়া এআই ব্যবহার করে ভুয়া খবর বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা সহজ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ব্যবহারকারী অজান্তেই সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করে ফেলেন, যা তথ্য সুরক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে কর্মক্ষেত্রেও পরিবর্তনের চাপ তৈরি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হলে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা জরুরি। সুবিধার পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে এই প্রযুক্তিকে আরও নিরাপদভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


