ইসলামে সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে কখনো সদকা ভুল ব্যক্তির হাতে পৌঁছালেও আল্লাহ তাআলার রহমত ও দয়া বান্দার ওপর অব্যাহত থাকে—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায় হাদিস থেকে।
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এক ব্যক্তি রাতে সদকা করার নিয়ত করে বের হন। তিনি অজান্তেই একজন ব্যাভিচারীকে সদকা দেন। সকালে লোকজন এ নিয়ে আলোচনা করলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন।
পরবর্তী দিন তিনি আবার সদকা করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এবার এক ধনী ব্যক্তিকে দান করেন। এরপরও তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন। তৃতীয় দিন তিনি আবার সদকা করে একজন চোরকে দান করেন।
(কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার সদকা কবুল করেছিলেন। কোনো ফেরেশতা অথবা সেই যুগের কোনো নবী আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে) তাকে বললেন, আপনার দেওয়া সব সদকাই কবুল হয়েছে। ব্যাভিচারীকে দেয়া সদকা কবুল হওয়ার কারণ হলো, আপনার সদকা পেয়ে সে হয়ত ওই রাতে ব্যাভিচার থেকে বিরত ছিল। ধনী ব্যক্তিকে যে সদকা দেয়া হয়েছিল তা কবুল হওয়ার কারণ হলো ধনী ব্যক্তি সদকা পেয়ে লজ্জিত হয়ে হয়ত শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে নিজেও দান করবে বলে সংকল্প করেছে। আর চোরকে দেয়া সদকা কবুল হওয়ার কারণ হলো আপনার সদকা পেয়ে চোর হয়ত ওই রাতে চুরি থেকে বিরত ছিল। (সহিহ মুসলিম: ২২৫২)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সদকার ক্ষেত্রে নিয়তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভুলক্রমে অনুপযুক্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছালেও আল্লাহ তাআলা তা কবুল করতে পারেন এবং এর মাধ্যমে অপ্রত্যাশিত কল্যাণও সৃষ্টি হতে পারে।
সিএ/এমআর


