যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই আবারও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে লোকেশন ডেটা সংগ্রহ করছে—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে হাজির হয়ে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানান, বিভিন্ন তদন্ত কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তারা বাণিজ্যিকভাবে বাজার থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করছেন।
জানা গেছে, এই তথ্যগুলো মূলত ডেটা ব্রোকারদের কাছ থেকে কেনা হয়। এসব ব্রোকার স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ও গেমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অজান্তেই লোকেশনসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে থাকে এবং পরে তা বিক্রি করে।
এর আগে সংস্থার সাবেক পরিচালক ক্রিস্টোফার রে বলেছিলেন, একসময় এ ধরনের তথ্য কেনা হলেও পরে তা বন্ধ ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।
ওরেগনের সিনেটর রন ওয়াইডেন এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে এফবিআই পরিচালক সরাসরি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেননি। বরং তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে সংস্থাটি সব ধরনের বৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করবে।
এফবিআইয়ের দাবি, তারা যে তথ্য সংগ্রহ করছে তা সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সমালোচকদের মতে, এটি নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের একটি পরোক্ষ উপায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ‘রিয়েল-টাইম বিডিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি হয়ে যায়, যা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যবহার করতে পারে।
সমালোচকরা মনে করেন, এভাবে তথ্য কেনা হলে আদালতের পরোয়ানা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, যা সংবিধানের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি করে।
এ প্রেক্ষাপটে সিনেটর ওয়াইডেন ‘গভর্নমেন্ট সার্ভেইল্যান্স রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। এটি পাস হলে বাজার থেকে ডেটা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক হতে পারে।
সিএ/এমআর


