ডিজিটাল যুগে পৃথিবীর প্রায় সব এলাকা হাতের মুঠোয় থাকা সত্ত্বেও আমেরিকার মিনেসোটার এক শহর গত ২০ বছর ধরে গুগল ম্যাপের স্ট্রিট ভিউ থেকে আড়াল রয়েছে।
বিলাসবহুল এই শহরটির নাম নর্থ ওকস। এখানে প্রতিটি বাড়ি সাজানো বাগান ও লনের মাঝে সুন্দরভাবে অবস্থিত এবং শহরের রাস্তাগুলো তুষার পরিষ্কার ও পরিপাটি। প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যে কারো জন্যই বেশ কঠিন। সম্প্রতি মিনেসোটাভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা ক্রিস পার ড্রোন ও কৌশলী পদ্ধতি ব্যবহার করে শহরটির অন্দরমহলের রহস্য উন্মোচন করেছেন।
নর্থ ওকস মিনিয়াপোলিস থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত। শহরের কর্তৃপক্ষ গত দুই দশক ধরে গুগলকে স্ট্রিট ভিউয়ের ছবি তোলার অনুমতি দেয়নি। ক্রিস পার বলেছেন, যখন নর্থ ওকস সম্পর্কে জানা শুরু করা হয়, তখনই শহরের আসল রহস্য সামনে আসে।
প্রত্যেক বাসিন্দার সম্পত্তি রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় এটি আইনগতভাবে ব্যক্তিগত জমি হিসেবে বিবেচিত, যেখানে অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা বা ম্যাপ তৈরি নিষিদ্ধ। ২০০৮ সালে শহরের কর্মকর্তারা গুগলকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তৎকালীন মেয়র টমাস ওয়াটসন বলেছেন, বিষয়টি এমন নয় যে কেউ শহরকে বিশ্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাচ্ছে, বরং ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ঢোকার অনুমতি নেই। গুগল কর্তৃপক্ষ চিঠি পাওয়ার পর নর্থ ওকসের সব স্ট্রিট ভিউ ছবি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
ক্রিস পার বলেছেন, ম্যাপ হচ্ছে জনকল্যাণমূলক কাঠামো। কোনো অঞ্চলের অসম্পূর্ণ মানচিত্র মানবতার জন্য একটি সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সমতুল্য। তিনি শহরের কঠোর বিধিনিষেধ এড়িয়ে ড্রোনের মাধ্যমে এলাকার মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম হন। এছাড়া ক্রিস পার ক্রেইগসলিস্টে বিজ্ঞাপন দিয়ে ১০ ডলারের বিনিময়ে শহরে প্রবেশের অনুমতি পান।
নর্থ ওকসের বাসিন্দাদের মধ্যে অনেক বড় কোম্পানির নির্বাহী এবং সিইও রয়েছেন। উনবিংশ শতাব্দীতে রেলওয়ে টাইকুন জেমস জে. হিল এখানে নর্থ ওকস ফার্ম তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে সমৃদ্ধ শহরে পরিণত হয়। এখানে এলএ চার্জার্স-এর জো অল্ট জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াল্টার মেন্ডেলও একটি জমির মালিক ছিলেন।
গুগল ম্যাপ থেকে আড়ালে থাকা নর্থ ওকসের মতো জায়গা বিশ্বে খুবই কম। যেমন, উত্তর কোরিয়ার বেশিরভাগ এলাকা এবং চীনের গ্রামাঞ্চলও ম্যাপে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে গুগল ম্যাপের প্রায় সব অংশ দেখা যায়, তবে এরিয়া ৫১ ও কিছু সরকারি স্থাপনা আড়াল রয়েছে।
সিএ/এমআর


