মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে নাসার ডার্ট মিশন। প্রথমবারের মতো মানুষের তৈরি কোনো মহাকাশযানের ধাক্কায় একটি গ্রহাণুর কক্ষপথ পরিমাপযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে পৃথিবীকে বিপজ্জনক মহাজাগতিক বস্তুর আঘাত থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২২ সালে পরিচালিত এই অভিযানে ছোট গ্রহাণু ডিমোরফসকে লক্ষ্য করে মহাকাশযান পাঠানো হয়। এটি বৃহত্তর গ্রহাণু ডিডাইমোসকে কেন্দ্র করে ঘোরে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ধাক্কার ফলে কেবল ডিমোরফসের কক্ষপথই পরিবর্তিত হয়েছে।
নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ধাক্কায় ডিমোরফসের কক্ষপথ সংকুচিত হয়েছে এবং এটি আগের তুলনায় ডিডাইমোসের আরও কাছে চলে এসেছে। পরবর্তীতে প্রকাশিত গবেষণায় জানানো হয়, এর ঘূর্ণনকাল প্রায় ৩৩ মিনিট কমে গেছে।
সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই প্রভাব শুধু ডিমোরফসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পুরো গ্রহাণু জোড়া বা বাইনারি সিস্টেমের ওপরই প্রভাব ফেলেছে। ডিডাইমোস ও ডিমোরফস সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৭৭০ দিন সময় নেয়, এবং এ ধাক্কার ফলে তাদের এই গতিতেও সামান্য পরিবর্তন এসেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক রাহিল মাকাদিয়া জানিয়েছেন, গতির এই পরিবর্তন প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ১১.৭ মাইক্রন হলেও দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষুদ্র পরিবর্তনই নির্ধারণ করতে পারে কোনো গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করবে নাকি পাশ কাটিয়ে যাবে।”
ডার্ট মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল মহাকাশের সম্ভাব্য বিপজ্জনক বস্তুর গতিপথ পরিবর্তনের একটি কার্যকর পদ্ধতি প্রদর্শন করা। এই সাফল্য ভবিষ্যতে গ্রহাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সিএ/এমআর


