তুরস্কে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রায় ১ হাজার ৯০০ বছর আগের একটি পাত্রে মানুষের মলের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন রোমান চিকিৎসাব্যবস্থার এক অদ্ভুত দিক সামনে এনেছে। গবেষকরা বলছেন, ঐতিহাসিক নথিতে এমন ব্যবহারের উল্লেখ থাকলেও বাস্তব প্রমাণ এই প্রথম মিলল।
গবেষণায় জানা গেছে, প্রাচীন রোমান চিকিৎসকেরা সংক্রমণ ও ব্যথা নিরাময়ে মল ব্যবহার করতেন। তবে এতদিন বিষয়টি কেবল পাণ্ডুলিপি ও লিখিত সূত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন এই আবিষ্কার সেই ধারণাকে বাস্তব ভিত্তি দিয়েছে।
তুরস্কের শিভাস রিপাবলিক ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক সেঙ্কার আতিলা ও তার সহকর্মীরা ইজমিরের বারগামা জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রাচীন পাত্রগুলোর উপাদান পরীক্ষা করতে গিয়ে এই তথ্য পান। তাদের বিশ্লেষণে একটি সরু গলার পাত্র বা আনগুয়েন্টারিয়ামে মলের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
গবেষকদের মতে, পাত্রটি লুটেরাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ায় এর সঠিক উৎসস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে পাত্রের নকশা ও গঠন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি প্রাচীন পারগামন অঞ্চলের, যা একসময় চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলেই বাস করতেন বিখ্যাত চিকিৎসক গ্যালেন, যিনি তার লেখায় চিকিৎসায় মলের ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ফলে আবিষ্কৃত পাত্রটির সঙ্গে সেই চিকিৎসা পদ্ধতির সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, রোমান চিকিৎসকেরা জানতেন এই ধরনের ওষুধ মানুষের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই এর ব্যবহার সহজ করতে তারা সুগন্ধি মিশিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিতেন। পাত্রটিতে থাইম তেলের উপস্থিতি পাওয়ায় সেই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।
সিএ/এমআর


