হাঁটতে শেখা বা স্পষ্টভাবে কথা বলার আগেই কিছু শিশু অন্যকে ফাঁকি দেওয়ার প্রাথমিক কৌশল আয়ত্ত করে ফেলে—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। গবেষকরা বলছেন, শিশুদের মানসিক বিকাশের খুব শুরুর পর্যায়েই এই আচরণের সূচনা হতে পারে।
সাড়ে সাতশ জন মা-বাবার ওপর পরিচালিত জরিপভিত্তিক এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১০ মাস বয়সী এক-চতুর্থাংশ শিশু এ সময়েই কিছু সাধারণ ছলচাতুরি শুরু করে। যেমন, ডাকা হলেও না শোনার ভান করা, খেলনা লুকিয়ে রাখা বা আড়ালে গিয়ে নিষিদ্ধ কিছু খাওয়া। কিছু ক্ষেত্রে আট মাস বয়স থেকেই এমন আচরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের এই কৌশল আরও জটিল ও পরিপক্ব হয়ে ওঠে। তিন বছরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে অনেক শিশু ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সৃজনশীল ও অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন তারা তথ্য গোপন করা, অস্বীকার করা বা ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার মতো আচরণ করতে পারে।
গবেষণার প্রধান লেখক ‘ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টল’-এর অধ্যাপক এলেনা হোইকা বলেছেন, “শিশুরা কত অল্প বয়স থেকে ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারে এবং প্রথম কয়েক বছরে তা কীভাবে ধাপে ধাপে বাড়ে তা উন্মোচনের বিষয়টি সত্যিই দারুণ।”
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, এতদিন প্রতারণা বা ছলনাকে একটি জটিল মানসিক প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা হতো, যা ভাষা দক্ষতা ও অন্যের মন বোঝার ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। তবে নতুন এই গবেষণা দেখাচ্ছে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।
প্রাণীদের আচরণ বিশ্লেষণ করেও গবেষণায় মিলেছে অনুরূপ প্রমাণ। যেমন, কিছু প্রাণী দলনেতার চোখ এড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করে বা মিথ্যা সংকেত দিয়ে অন্যদের বিভ্রান্ত করে। এই আচরণগুলো মানুষের শিশুদের প্রাথমিক ছলচাতুরির সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করছেন গবেষকরা।
অধ্যাপক হোইকা বলেন, “অন্যকে ঠকানোর এ সক্ষমতা হুট করে তিন বা চার বছর বয়সে তৈরি হয় না। শুরুতে এগুলো পুরোপুরি মিথ্যা বা বড় কোনো জালিয়াতি নয়, বরং এগুলো কোনো কাজ করে পার পেয়ে যাওয়া বা বাড়তি কোনো সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা।”
তিনি আরও বলেন, “এ গবেষণার উদ্দেশ্য মা-বাবা ও শিক্ষকদের আশ্বস্ত করা যে, শিশুদের এ বয়সে এমন আচরণ করা একেবারেই স্বাভাবিক।”
গবেষণাটি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার চার বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর পরিচালিত হয়েছে। এর ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে ‘কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট’ সাময়িকীতে।
সিএ/এমআর


