ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পুটিমারী এলাকায় একই জমিতে আলু ও চালকুমড়ার ভিন্নধর্মী চাষ পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এই পদ্ধতিতে বাড়তি ফলন ও লাভ পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, জমির নিচে সারি সারি আলু আর তার ওপরে মাচাজুড়ে ছড়িয়ে আছে চালকুমড়ার লতা। শুধু পুটিমারী নয়, আশপাশের এলাকাতেও এই পদ্ধতির চাষাবাদ ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষক আসাদুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। আলুগাছ বড় হওয়ার পর সারির মাঝখানে চালকুমড়ার চারা লাগান। এরপর খুঁটি ও বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করে নাইলনের সুতা বেঁধে লতাগুলো ওপরে তোলা হয়।
তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে প্রথমবার মাচা তৈরি করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে খরচ কমে আসে এবং একবার তৈরি করা মাচা চার থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
আসাদুলের ভাষ্য, অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি আলু রোপণের পর প্রায় এক মাসের মাথায় চালকুমড়ার চারা লাগানো হয়। ফাল্গুনে আলু তোলার পর মাচাজুড়ে চালকুমড়ার লতা ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আলুর সঙ্গে চালকুমড়া চাষ করেছেন। তাঁর আশা, চালকুমড়া বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।
একই পদ্ধতিতে চাষ করা কৃষক সাইদুর রহমান জানান, দেড় বিঘা জমিতে আলুর সঙ্গে চালকুমড়া লাগিয়েছেন। তাঁর গাছে ইতিমধ্যে ফুল এসেছে। আলু তোলার ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই চালকুমড়া সংগ্রহ করা যাবে। এক দফায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজারটি চালকুমড়া পাওয়ার আশা করছেন তিনি। এভাবে ১২ থেকে ১৪ বার ফসল তোলা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
আরেক কৃষক সুরেশ রায় বলেন, ৩০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ শেষে এখন সেখানে চালকুমড়া রয়েছে। এই ফসল তোলার পর একই জমিতে লাউ চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক আলমগীর কবির বলেন, আলুর সঙ্গে মাচায় চালকুমড়া চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন কৃষকেরা। এতে তাদের আয় বাড়ছে। কৃষকদের সাথি ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।
সিএ/এমই


