গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় অবস্থিত লাইফ কেয়ার হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব আহমেদ। তিনি জানান, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান জানান, তিন সদস্যের ওই তদন্ত কমিটিতে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কনসালট্যান্ট, গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন চিকিৎসক এবং কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রয়েছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২২-২৩ সালের পর থেকে লাইফ কেয়ার হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালটি সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে নিহত রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান নেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আপাতত হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তরকেও ব্যক্তিগতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, রোববার (৯ মার্চ) রাত ১০টার দিকে রুমা আক্তার (২৫) নামের এক প্রসূতির অস্ত্রোপচার করা হয় লাইফ কেয়ার হাসপাতালে। পরে রাত প্রায় ২টার দিকে তাঁকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার কথা বলা হয়। সোমবার সকালে হাসপাতালের সামনে তাঁর মরদেহ রেখে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও নানা অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের ২৩ জুলাই ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে হাসপাতালটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল ইয়াসমিন আক্তার নামের এক নারীর ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠে। সে সময়ও রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব আহমেদ বলেন, অতীতে বিভিন্ন ঘটনার পরও অনেক সময় রোগীর স্বজনেরা মামলা করেন না। ফলে আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


