যশোরের অভয়নগর উপজেলায় পাচারের সময় ৫৬ বস্তা সরকারি সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় আটক এক ব্যক্তিকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার (৯ মার্চ) রাতে উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে এসব সার জব্দ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত প্রায় নয়টার দিকে উপজেলার নওয়াপাড়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিসিআইসির ছয় বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, পাচারের উদ্দেশ্যে সারগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল।
এরপর রাত সাড়ে নয়টার দিকে নওয়াপাড়ার জগবাবুর মোড় এলাকায় আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে ইঞ্জিনচালিত ভটভটিতে করে পরিবহন করা হচ্ছিল বিএডিসির ৫০ বস্তা ডিএপি সার। ভ্রাম্যমাণ আদালত ভটভটিসহ সারগুলো জব্দ করে।
জানা গেছে, জব্দ করা ডিএপি সারগুলো মনিরামপুর উপজেলা থেকে নওয়াপাড়ায় আনা হচ্ছিল। অভিযানের সময় ভটভটি চালক ও সারের মালিক সাবিরুল মোল্যা (২০)কে আটক করা হয়। তিনি অভয়নগর উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের হাফিজুর রহমান মোল্যার ছেলে।
অভিযান পরিচালনা করেন যশোরের অভয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু। ভ্রাম্যমাণ আদালত সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬-এর ৮(১) ধারা অনুযায়ী সাবিরুল মোল্যাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ৫০ বস্তা ডিএপি সার ও ভটভটি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, গতকাল রাতে ৫০ বস্তা ডিএপি সার মনিরামপুর থেকে নওয়াপাড়ায় আনার পথে ইঞ্জিনচালিত ভটভটিসহ সার জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া নওয়াপাড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে পাচারের সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ছয় বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সরকারি মূল্যে বিক্রি করে বিক্রির টাকা সরকারের রাজস্ব তহবিলে জমা দেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু বলেন, ‘কাগজপত্র ছাড়া অবৈধভাবে সার পরিবহনের দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬-এর ৮(১) ধারা মোতাবেক ভটভটিচালক ও সারের মালিককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৫০ বস্তা ডিএপি সারসহ ভটভটি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় ছয় বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে।
সিএ/এমই


