পবিত্র রমজান মাস এলেই ঈদের কেনাকাটার আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার প্রস্তুতি শুরু হয় এই সময়েই। শপিংমল ও বিপণিবিতানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে সারাদিন রোজা রেখে বাইরে গিয়ে কেনাকাটা করা অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। তাই অনেকে ঘরে বসেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঈদের কেনাকাটা সম্পন্ন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
তবে অনলাইন কেনাকাটার সুবিধার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারক চক্র নকল পণ্য বিক্রি, ভুয়া ওয়েবসাইট বা আর্থিক প্রতারণার মাধ্যমে ক্রেতাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এসব প্রতারণা আরও বেড়ে যায় বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে কেনাকাটা করার আগে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা যাচাই করা জরুরি। সাধারণত নিরাপদ ওয়েবসাইটের ঠিকানার শুরুতে https লেখা থাকে এবং ব্রাউজারে একটি লক আইকন দেখা যায়।
কেনাকাটার ক্ষেত্রে পরিচিত ও বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা নিরাপদ। কোনো নতুন বা অচেনা ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কেনার আগে সেই প্রতিষ্ঠানের রিভিউ ও রেটিং ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
অনেক সময় আকর্ষণীয় ছাড়ের অফার দেখিয়ে ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলা হয়। ৫০ শতাংশ ছাড় বা সীমিত সংখ্যক পণ্যের বিশেষ অফারের মতো বিজ্ঞাপন দেখলে তার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য দেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে ওয়েবসাইটটি নিরাপদ এবং বৈধ।
এ ছাড়া পণ্য অর্ডার করার আগে ডেলিভারি সময়, রিটার্ন বা রিফান্ড নীতি ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। অনেক প্রতারক ওয়েবসাইট সময়মতো পণ্য সরবরাহ করে না বা ফেরত নেওয়ার সুযোগও দেয় না।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইলে আসা অজানা লিংকে ক্লিক না করে সরাসরি ব্রাউজার থেকে ওয়েবসাইট খুলে অর্ডার দেওয়া নিরাপদ।
এ ছাড়া নিয়মিত ইমেইলের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং ব্যাংক কার্ডের মোবাইল পিন আপডেট রাখাও নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। অনলাইন লেনদেনের সময় ওটিপি যাচাই করেও প্রতারণার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


