অনেক সময় শিশুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা পারিবারিক উপলক্ষে স্বর্ণালঙ্কার উপহার দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, শিশুর নামে থাকা স্বর্ণালঙ্কারের জাকাত দিতে হবে কি না এবং সেটি বাবা-মায়ের সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে কি না।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো শিশু যদি উপহার হিসেবে স্বর্ণালঙ্কার পায়, তাহলে সেই স্বর্ণালঙ্কারের মালিক হবে শিশুই। বাবা বা মা ওই সম্পদের মালিক হিসেবে বিবেচিত হবেন না এবং তাদের জাকাতের হিসাবেও তা যুক্ত হবে না।
এ ছাড়া ইসলামি বিধান অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ওপর নামাজ ও রোজার মতো জাকাতও ফরজ নয়। তাই কোনো শিশু বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেও তার সম্পদের ওপর জাকাত আদায় বাধ্যতামূলক নয়।
হাদিসে বর্ণিত আছে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন, এতিমের সম্পদে জাকাত নেই। কিতাবুল আছার: ২৯৪
ইসলামে জাকাত একটি ফরজ বিধান এবং ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান পুরুষ ও নারীর জন্য প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের একটি অংশ দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক।
শরিয়ত অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার বেশি সম্পদ যদি কারও কাছে এক হিজরি বছর ধরে থাকে, তাহলে তাকে সম্পদশালী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তার বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হয়।
কোরআনে জাকাতের গুরুত্ব বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, আর তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত দাও এবং যে নেক আমল তোমরা নিজদের জন্য আগে পাঠাবে, তা আল্লাহর নিকট পাবে। তোমরা যা করছ নিশ্চয় আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা। সুরা বাকারা ১১০
জাকাতের হিসাব সাধারণত হিজরি বর্ষ অনুযায়ী করা হয়। অনেকেই রমজান মাসে জাকাতের হিসাব করে থাকেন। হিসাব করার পর পুরো অর্থ একবারে দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়; বরং সারা বছর ধীরে ধীরে তা আদায় করা যেতে পারে।
সিএ/এমআর


