ময়মনসিংহ নগরীতে এক কলেজছাত্রের কক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সহপাঠী ও স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি সোমবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেল চারটার দিকে নগরীর সানকিপাড়া এলাকার হেলথ অফিসার গলিতে একটি ছাত্রমেসে ঘটে। উদ্ধার অভিযানের ভিডিও মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম সোহান (১৯)। তিনি নগরীর একটি বেসরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী এবং জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা। পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি সানকিপাড়ার একটি ছাত্রমেসে থাকতেন।
সহপাঠীরা জানান, ভোররাতে সোহান ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় অন্যরা বাইরে ছিলেন। পরে সকালে ফিরে এসে তাঁকে অনেকবার ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দরজায় বারবার ধাক্কা দিয়েও সাড়া না মেলায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি টের পেয়ে বাসার সামনে জড়ো হন এবং ডাকাডাকি করেন। তবু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না আসায় থানায় খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, সোহান গভীর ঘুমে ছিলেন। তাঁকে ডেকে তোলা হলে তিনি স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেন।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার জুলহাস উদ্দিন বলেন, ওই শিক্ষার্থী ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়েন। তাঁর সহপাঠীরা না ঘুমিয়ে বাইরে চলে যান। এমন সময় ওই শিক্ষার্থী ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে সকালে সহপাঠীরা এসে অনেক ডাকাডাকি করলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষজন ভিড় জমাতে থাকেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে ১২ ঘণ্টা পর সোহানকে উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ওই ছাত্র সারা রাত না ঘুমিয়ে ভোররাতে ঘুমান। যে কারণে অনেক ডাকাডাকি করলেও তিনি টের পাননি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এখন ওই ছাত্র সুস্থ আছেন।
সিএ/এমই


