শিলন্দিয়ার শনিবারের রাতটা শুধু আগুনের নয়, এটি ছিল একটি দরিদ্র পরিবারের জীবনের অন্ধকার রাত। দিনমজুর মুজাম্মেল হক মল্লিকের চোখের সামনে একে একে পুড়ে মরল ২১টি ছাগল এবং দুইটি গরু।
প্রাণগুলোর সঙ্গে যেন নিভে গেল মুজাম্মেল পরিবারের আগামী দিনের আলো। এখনও দগ্ধ অবস্থায় একটি গরু এবং ছয়টি ছাগল রয়েছে। পরিবারটি দুশ্চিন্তায় আছে, এই বাকি পশুগুলো আদৌ বাঁচানো সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও।
মুজাম্মেল হক বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের শিলন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দিনমজুরির পাশাপাশি গরু-ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে মুজাম্মেল হকের বসতঘরে আগুন লাগে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গোয়ালঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর, রান্নাঘর এবং গবাদিপশুর ঘরে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকালে কাজ মিললে দিন চলে, না মিললে খাবারও জোটে না। এই অনিশ্চিত জীবনের মধ্যে মুজাম্মেলের একমাত্র ভরসার জায়গা ছিল গরু-ছাগল। এখান থেকেই ঘরে আসতো চাল-ডাল, গাভীর দুধে চলে যেত নিত্য খরচ, অসুখ-বিসুখের সময়ও এগুলোই ছিল শেষ অবলম্বন। মুহূর্তে আগুন সেই সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।
আগুনের কাছে কারণের কোনো দাম নেই। মুহূর্তে তা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রাম জেগে ওঠে চিৎকারে, মানুষ দৌড়ে আসে, পানি ঢেলে চেষ্টা করে। তবে চোখের সামনে পশুগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস রওনা হলেও ভাঙা রাস্তা এবং দূরত্বের কারণে অনেক দেরি হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের আগেই সব শেষ হয়ে যায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পশুগুলো ছিল মুজাম্মেল হকের ‘ব্যাংক’, তার সঞ্চয়, তার ভবিষ্যৎ। আজ সেই ব্যাংক আগুনে পুড়ে শূন্য। বসতঘর ভস্মীভূত, গোয়ালঘর নেই, আয়ের কোনো পথও নেই। আগুন কেবল প্রাণই নেয়নি, একজন দিনমজুরের মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও কেড়ে নিয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সিএ/এএ


