রাজধানীর হাজারীবাগে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার সিয়াম হোসেন ওরফে ইমন (১৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার এসআই মো. মতিউর রহমান জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তা গ্রহণ করেন এবং পরে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে সিয়াম ও ভুক্তভোগী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি শিকড় আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়তেন। সে সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সিয়াম তাঁর মামার সঙ্গে হাজারীবাগ থানার জিগাতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে তাঁরা রামপুরায় বাসা নেন। সেখান থেকে তিনি নিয়মিত হাজারীবাগে এসে শারমিনের সঙ্গে দেখা করতেন।
আবেদনে বলা হয়, অন্য বন্ধুদের মাধ্যমে শারমিনের একাধিক সম্পর্ক ও ছবি থাকার বিষয়ে জানতে পারেন সিয়াম। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় আট মাস যোগাযোগ বন্ধ থাকে। গত বছরের অক্টোবর থেকে আবার যোগাযোগ শুরু হয়। তবে শারমিনের আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সিয়াম এক পরিচিত বন্ধুর মাধ্যমে তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব পাঠান। শারমিন তা গ্রহণ করলে সিয়াম বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শারমিন অস্বীকার করলে তিনি সরাসরি জিজ্ঞেস করার সিদ্ধান্ত নেন এবং অস্বীকার করলে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সিয়াম হাজারীবাগের ট্যানারি মোড় থেকে একটি চাকু কিনে সঙ্গে রাখেন। সন্ধ্যায় রায়েরবাজার স্কুলের সামনে দেখা করার কথা বলে শারমিনকে ডাকেন। দুজন রিকশায় করে বাংলামোটর এলাকায় গিয়ে আবার ফিরে আসেন। পরে শারমিনের বাসার পাশেই কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। সেখানে সিয়াম ক্ষমা চাইতে বললে শারমিন অস্বীকার করেন। তখন সিয়াম এক হাতে তাঁকে চেপে ধরে অপর হাতে পেটে ও পিঠে চাকু দিয়ে আঘাত করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় শারমিন বাড়ির দিকে দৌড়ে যান। ঘটনার পর সিয়াম নিজের জামায় চাকুর রক্ত মুছে কাঁঠালবাগানে দাদার বর্তমান ঠিকানার বাসায় আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর বাবা মো. বিল্লাল হোসেন হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সিএ/এমই


