বয়স মাত্র ১৫। কিন্তু ব্যাট হাতে বৈভব সূর্যবংশী যে আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন, তা ইতোমধ্যেই তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এবার শ্রীলঙ্কা ‘এ’-এর বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ভারতের এই তরুণ ওপেনার।
ডাম্বুলার রঙ্গিরি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চড়াও হন সূর্যবংশী। প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক মানসিকতায় খেলতে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটার খুব অল্প সময়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে যান।
মাত্র ১১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। এতদিন এই রেকর্ড ছিল শ্রীলঙ্কার কৌশল্য বীরা রত্নের দখলে। ২০০৫ সালে তিনি ১২ বলে ফিফটি করেছিলেন। দুই দশক পর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখলেন সূর্যবংশী।
শুধু আন্তর্জাতিক রেকর্ডই নয়, ভেঙে গেছে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের দ্রুততম ফিফটির কীর্তিও। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সরফরাজ খানের, যিনি বিজয় হাজারে ট্রফিতে ১৫ বলে অর্ধশতক করেছিলেন।
ফাইনালে সূর্যবংশীর ইনিংস থামে ২৯ বলে ৯৪ রানে। তার ব্যাট থেকে আসে একাধিক বাউন্ডারি ও বড় শট। তবে শতকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক স্পর্শ করা হয়নি।
এই কারণেই অল্পের জন্য অধরাই থেকে গেছে এবি ডি ভিলিয়ার্সের দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড। ২০১৫ সালে জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে মাত্র ৩১ বলে শতক করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার। সূর্যবংশীর ইনিংস সেই রেকর্ডের আলোচনায় জায়গা পেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়িয়ে যাওয়া হয়নি।
ফাইনালের আগে খুব ভালো ছন্দে ছিলেন না এই তরুণ ব্যাটার। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে সব আলোচনা নিজের দিকে টেনে নেন তিনি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লিস্ট ‘এ’ অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক ম্যাচ খেললেও ইতোমধ্যেই নজর কাড়ার মতো কয়েকটি ইনিংস খেলেছেন সূর্যবংশী। বিহারের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার ১৯০ রানের ইনিংসও আলোচনায় এসেছে। আর ফাইনালের এই ইনিংস তাকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এলো।
সিএ/এমই


