২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই দেখা যাচ্ছে ব্যতিক্রমী এক চিত্র। ম্যাচের পর ম্যাচে গোলের বন্যা বইছে, তৈরি হচ্ছে নতুন পরিসংখ্যান ও আলোচনার খোরাক। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের ছাপ দেখা গেলেও এবার গোলসংখ্যার এক অনন্য মাইলফলক ছুঁয়ে নতুন রেকর্ডের কাতারে উঠে এসেছে আসরটি।
শনিবার নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের ম্যাচে আসে সেই বিশেষ মুহূর্ত। ডাচদের ৫-১ গোলের জয়ে দলের হয়ে শততম গোলটি করেন ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো। তার গোলেই ২০২৬ বিশ্বকাপ মাত্র ৩৩ ম্যাচে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এত দ্রুত ১০০ গোল হওয়ার ঘটনা সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৫৮ সালে। সেবারও টুর্নামেন্টের ৩৩তম ম্যাচে পূর্ণ হয়েছিল গোলের শতক। তবে সবচেয়ে দ্রুত এই অর্জনের রেকর্ড এখনো ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের দখলে, যেখানে মাত্র ২০ ম্যাচেই ১০০ গোল হয়েছিল।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ম্যাচপ্রতি গোলের গড় দাঁড়িয়েছে ৩.০২। সেই গড় ধরে টুর্নামেন্ট এগোলে ১০৪ ম্যাচ শেষে মোট গোলসংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গোল উৎসবের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। আলোচনায় রয়েছে টুর্নামেন্টের নতুন অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’। বেশ কয়েকজন গোলরক্ষক বলটির গতি ও অস্বাভাবিক বাঁক নিয়ন্ত্রণে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। ফলে দূরপাল্লার শট থেকেও এসেছে একাধিক চমকপ্রদ গোল।
এছাড়া ৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপের প্রভাবও স্পষ্ট। নতুন ও তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর অংশগ্রহণে কিছু ম্যাচে গোলের ব্যবধান বড় হচ্ছে। জার্মানির কাছে কুরাসাওয়ের ৭-১ গোলের হার কিংবা কানাডার ৬-০ ব্যবধানে কাতারকে হারানো সেই প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।
আবহাওয়াও আলোচনায় রয়েছে। তীব্র গরম এবং বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতির কারণে ম্যাচের শেষভাগে অনেক দলের রক্ষণভাগে ছন্দপতন দেখা যাচ্ছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা গোলসংখ্যা বাড়িয়ে চলেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, টুর্নামেন্টে হওয়া মোট গোলের প্রায় ২৯ শতাংশ এসেছে ম্যাচের ৭৬ মিনিটের পর।
একই সঙ্গে তারকা ফুটবলারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও গোল উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক, কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ধারাবাহিকতা, আর্লিং হলান্ড ও হ্যারি কেইনের গোল—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন আক্রমণভিত্তিক ফুটবলের এক প্রাণবন্ত মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
সিএ/এমই


