বিশ্বের জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব আবারও অ্যাপের ভেতরে সরাসরি বার্তা আদান-প্রদানের সুবিধা চালু করেছে। নতুনভাবে সাজানো এই ডাইরেক্ট মেসেজিং ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইউটিউবের ভিডিও, লাইভস্ট্রিম ও শর্টস আরও সহজে একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও সিঙ্গাপুরের ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে বিশ্বের আরও বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের কাছেও এটি পৌঁছে দেওয়া হবে।
ইউটিউব এর আগেও ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইন-অ্যাপ মেসেজিং সুবিধা চালু করেছিল। তবে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে সেই ফিচার বন্ধ করা হয়। কয়েক বছর পর নতুন কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করে আবারও এই সেবা ফিরিয়ে আনা হলো।
যেসব ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধাটি চালু হয়েছে, তারা ইউটিউব অ্যাপের উপরের ডান পাশে একটি নতুন মেসেজিং আইকন দেখতে পাবেন। সেই আইকনে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত কথোপকথন শুরু করা যাবে এবং পরিচিতদের সঙ্গে ভিডিও শেয়ার করা যাবে।
নতুন এই মেসেজিং সিস্টেম মূলত ইউটিউবভিত্তিক কনটেন্ট আদান-প্রদানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোনো ভিডিও, লাইভস্ট্রিম বা শর্টসের ‘শেয়ার’ অপশনে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীরা সরাসরি ইউটিউবের নিজস্ব চ্যাট ইন্টারফেস ব্যবহার করে তা পাঠাতে পারবেন।
তবে এটি প্রচলিত মেসেজিং অ্যাপের পূর্ণাঙ্গ বিকল্প নয়। এখানে ছবি, জিআইএফ, ফাইল বা অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া ফাইল পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়নি। ব্যবহারকারীরা কেবল ইউটিউব কনটেন্ট এবং টেক্সট বার্তা বিনিময় করতে পারবেন।
স্প্যাম ও অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা নিয়ন্ত্রণে ইউটিউব আমন্ত্রণভিত্তিক সংযোগ পদ্ধতি চালু করেছে। কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে সরাসরি বার্তা পাঠানো যাবে না। প্রথমে এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ বা আইম্যাসেজের মতো তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমন্ত্রণ লিংক পাঠাতে হবে। আমন্ত্রণ গ্রহণের পরই দুই ব্যবহারকারী পরস্পরের কনট্যাক্ট তালিকায় যুক্ত হবেন এবং চ্যাট করার সুযোগ পাবেন।
ইউটিউব জানিয়েছে, এই সুবিধা শুধুমাত্র ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত চ্যাটেও প্ল্যাটফর্মটির কমিউনিটি গাইডলাইন কার্যকর থাকবে। ফলে ক্ষতিকর, সহিংস বা অনুপযুক্ত কনটেন্ট শেয়ার করা যাবে না।
নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ব্যবহারকারীদের জন্য ব্লক, রিপোর্ট এবং পাঠানো বার্তা প্রত্যাহার বা আনসেন্ড করার সুবিধাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফিচারটির সম্প্রসারণ ধাপে ধাপে করা হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে আয়ারল্যান্ড ও পোল্যান্ডে সীমিত পরিসরে এর পরীক্ষা চালানো হয়। পরে ২০২৬ সালের মার্চে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনসহ ইউরোপের ৩০টির বেশি দেশে এটি বিস্তৃত করা হয়। সাম্প্রতিক সম্প্রসারণকে ইউটিউবের ডাইরেক্ট মেসেজিং সেবার সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক বিস্তার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


