রাজধানীর প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদারকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অপর তিন আসামি হলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার। এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে আলোচনায় আসেন আবদুর রাজ্জাক।
আদালত সূত্র জানায়, আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরমান আলী। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং আগামী ১ মার্চ জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী নির্জন সরদার বাদী হয়ে আবদুর রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে গুলশান থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, নির্জন সরদারের সঙ্গে আসামিদের পূর্বশত্রুতা ছিল। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলার ৪১২ নম্বর কক্ষে তাঁদের দেখা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও সমাবর্তনে অংশগ্রহণের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শের প্রসঙ্গ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, আবদুর রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে নির্জনের পিঠ ও বুকে আঘাত করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্জনের মুখমণ্ডলে আঘাত করেন, এতে তাঁর নাকের উপরিভাগ কেটে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
পরিস্থিতি গুরুতর হলে নির্জনের বন্ধু ও কয়েকজন শিক্ষক এগিয়ে এলে আসামিরা তাঁদেরও ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে গুলশান থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের আটক করে।
সিএ/এমই


