ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদতগুলোর মধ্যে সালাতের পরেই জাকাতের অবস্থান। জাকাত কেবল দান নয়; এটি সমাজে সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা এবং দরিদ্র মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার একটি মৌলিক বিধান।
অনেক সময় জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে মুসলমানরা বিভ্রান্তিতে পড়েন—কাকে জাকাত দেওয়া যাবে এবং কাকে দেওয়া যাবে না। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জাকাতের নির্ধারিত খাতগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, সফরে বিপদে পড়া মানুষ এবং নির্ধারিত অন্যান্য খাতে জাকাত দেওয়া যায়। তবে যাদের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আছে, তাদের জাকাত দেওয়া যাবে না।
এ ছাড়া জাকাতের অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজ, মসজিদ বা মাদ্রাসা নির্মাণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যয় করলে জাকাত আদায় হয় না। জাকাতের শর্ত হলো, উপযুক্ত ব্যক্তিকে মালিকানা হস্তান্তর করা।
নিজের পিতা-মাতা, সন্তান, দাদা-দাদি বা নাতি-নাতনিকে জাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ। একইভাবে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দিতে পারেন না। আত্মীয়স্বজন যদি উপযুক্ত হন, তবে তাদের জাকাত দেওয়া উত্তম বলে বিবেচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে জাকাত আদায় করলে তা শুধু ইবাদত পূর্ণ করে না, বরং সমাজে ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


