ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসে যেসব প্রতিষ্ঠান শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্ঞান ও চিন্তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, মিসরের আল আজহার তাদের অন্যতম। ১০৮৬ বছরের পথচলায় এই প্রতিষ্ঠান শুধু একটি মসজিদ নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও ধর্মতাত্ত্বিক নেতৃত্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
কায়রো নগর প্রতিষ্ঠার পর ফাতেমীয় শাসনামলে ৩৫৯ হিজরিতে আল আজহারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২৭ মাসের মধ্যে ৩৬১ হিজরির ৭ রমজানে এখানে প্রথম জুমার নামাজ আদায় করা হয়। সেই দিন থেকেই শুরু হয় আল আজহারের দীর্ঘ জ্ঞানযাত্রা।
প্রথমে একটি জামে মসজিদ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও অচিরেই এটি কুরআন, হাদিস, ফিকহ, ভাষাতত্ত্ব ও দর্শনচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আল আজহার একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো লাভ করে এবং বিশ্বের প্রাচীনতম ধারাবাহিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অর্জন করে।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে ফাতেমীয়, আইয়ুবীয়, মামলুক ও উসমানি শাসনামলে এর সম্প্রসারণ ও সংস্কার হয়েছে। প্রতিটি যুগ আল আজহারের স্থাপত্য ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে এর স্থাপনায় একাধিক মিনার, মিহরাব ও ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে।
আধুনিক বিশ্বে আল আজহার শুধু একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি বৈশ্বিক বৌদ্ধিক নেটওয়ার্ক। এর গবেষণা পরিষদ ও ফতোয়া বোর্ড মুসলিম বিশ্বের নানা প্রান্তে ধর্মীয় ও নৈতিক দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপন্থী ও সংলাপনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই আল আজহার শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে থাকতে পেরেছে।
সিএ/এমআর


