রাজধানীর গুলশানে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে আবুজর শেখ (২৪) নামে এক তরুণকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনি জনতার দল গঠন করে সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বলপ্রয়োগ ও উগ্রতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্ররোচনা দিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন। এতে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৬/৩০২/১১৪/১০/৩৪ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) ইসরাইল হোসেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখায় চার্জশিট দাখিল করেন। তবে চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে এখনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম এবং আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় গুলশানের প্রগতি সরণির বারিধারা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একটি মিছিল চলছিল। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলে গুলি চালান। এতে আবুজর শেখ গুলিবিদ্ধ হন। তাকে প্রথমে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ২৭ জুলাই তিনি মারা যান।
ঘটনার পর ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর আবুজরের মা ছবি খাতুন বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে এন্টি টেররিজম ইউনিট।
মামলায় বিচারপতি মানিকসহ তিন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
সিএ/এএ


