বর্তমান বিশ্বে তথ্য অনুসন্ধানের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। তবে এই এআই ব্যবস্থাগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিবিসির সাংবাদিক টমাস জার্মেইনের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামান্য ভুয়া তথ্য দিয়েও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই চ্যাটবটগুলোকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব।
গবেষণার অংশ হিসেবে টমাস জার্মেইন তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি নিজেকে বিশ্বের সেরা ‘হট ডগ’ খাদক হিসেবে দাবি করেন এবং ২০২৬ সালের একটি অস্তিত্বহীন প্রতিযোগিতার উল্লেখ করেন। আশ্চর্যজনকভাবে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গুগলের জেমিনি ও ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি এই ভুয়া তথ্যকে সত্য হিসেবে ধরে নিয়ে ব্যবহারকারীদের জানাতে শুরু করে।
তবে সব এআই এই ফাঁদে পড়েনি। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যানথ্রপিকের ক্লড এই ভুয়া তথ্যকে গ্রহণ করেনি। এতে বোঝা যাচ্ছে, তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এআই সিস্টেমের সক্ষমতায় বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
ডিজিটাল রাইটস বিশেষজ্ঞ কুপার কুইন্টিন সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে এআইকে প্রভাবিত করে কারও মানহানি এমনকি শারীরিক ক্ষতির মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব। অন্যদিকে, আমসিভ এজেন্সির বিশেষজ্ঞ লিলি রে মনে করেন, এআইয়ের এই দুর্বলতা স্প্যামারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তাঁর মতে, বর্তমানে এআই চ্যাটবটকে বিভ্রান্ত করা কয়েক বছর আগের সার্চ ইঞ্জিনকে বিভ্রান্ত করার চেয়েও সহজ।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এআই যখন কোনো বিষয়ের সারসংক্ষেপ দেয়, তখন ব্যবহারকারীদের মূল উৎসে গিয়ে তথ্য যাচাই করার প্রবণতা প্রায় ৫৮ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে মানুষ অন্ধভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি কেবল মজার বা তুচ্ছ তথ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাস্থ্য ও আর্থিক বিষয়েও এআই অনেক সময় বিভ্রান্তিকর বা যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে, যা ব্যবহারকারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এ বিষয়ে গুগল ও ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা তাদের সিস্টেম আরও সুরক্ষিত ও নির্ভুল করতে কাজ করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের উৎস স্পষ্ট করা এবং ব্যবহারকারীদের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি দিয়ে তথ্য যাচাই করা এখন সময়ের দাবি।
সিএ/এমআর


