টিকটকে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত গানগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ‘বাংলাদেশ’। মাত্র ৪৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এই গানটি অদ্ভুত কথামালা, ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা এবং রসাত্মক সুরের কারণে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীদের মধ্যে। গানটি ব্যবহার করে অসংখ্য মানুষ নাচ, লিপসিংক ও বিনোদনধর্মী ভিডিও তৈরি করছেন।
গানটির নির্মাতা মার্কিন সংগীতশিল্পী ইয়ান ম্যাককনেল। তাঁর তৈরি এই সংক্ষিপ্ত সংগীতে ভালোবাসার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কিছু কাল্পনিক ও অস্বাভাবিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, যা শ্রোতাদের কাছে হাস্যরসের জন্ম দিচ্ছে। গানের মূল লাইন ‘ইউ নেভার টেক মি টু বাংলাদেশ’ বা ‘তুমি আমাকে কখনোই বাংলাদেশে নিয়ে যাও নাই’ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।
গানটির কথায় আরও রয়েছে, ‘তুমি আমাকে কখনোই বাংলাদেশে নিয়ে যাও নাই/ খোলা আগুনে আমার জন্য সসেজ রান্না করো নাই/ কখনো আমার গায়ে তেল মাখিয়ে দাও নাই/ আমার জন্য কোনো উপন্যাস লেখো নাই/ তুমি কখনো আমার শত্রুদের মোহিতো পানীয়তে বিষ মিশিয়ে দাও নাই।’ এসব অদ্ভুত ও খাপছাড়া বক্তব্যই গানটির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রথমদিকে গানটি খুব বেশি আলোচনায় না এলেও পরে এর ভাগ্য বদলে যায়। টিকটকভিত্তিক সংগীত নির্মাতা প্রডপডি গানটির একটি রিমিক্স সংস্করণ তৈরি করে প্রকাশ করলে সেটি দ্রুত ভাইরাল হয়। তাঁর প্রকাশিত প্রথম রিমিক্স ভিডিও কয়েক দিনের মধ্যেই আট লাখের বেশি ভিউ অর্জন করে। এরপর একই সাউন্ড ব্যবহার করে অসংখ্য ভিডিও তৈরি হতে থাকে, যা গানটির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তারকারাও এই গানের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। সুইডিশ পপ তারকা জারা লারসন গানটির রিমিক্স সংস্করণের সঙ্গে নাচের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি ২৫ লাখের বেশি দর্শক দেখেছেন। অন্যদিকে জনপ্রিয় গায়িকা লিজোও গানটি গেয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যা কয়েক লাখ ভিউ অর্জন করেছে। তিনি ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এই গানের কথাগুলো আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি।’
এদিকে বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী এস জেড এ-ও গানটির কথামালা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘তুমি যদি আমার শত্রুদের ড্রিংকসে বিষ মিশিয়ে দিতে না পারো, তবে কি তুমি আমাকে আসলেই ভালোবাসো? না, বাসো না!’
সংক্ষিপ্ত সময়ের একটি গান কীভাবে বিশ্বব্যাপী আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে, তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে ‘বাংলাদেশ’। ব্যতিক্রমী রসিকতা, অদ্ভুত লিরিকস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব মিলিয়ে গানটি এখন কোটি মানুষের বিনোদনের অংশ।
সিএ/এমআর


