দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট সার্কের বর্তমান অচলাবস্থা শুধু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে নয়, এর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাও জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আন্তরিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সার্ক আবারও কার্যকর আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সার্কের সম্ভাবনা এখনো বিদ্যমান। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সংস্থাটির কাঠামোগত সংস্কার এবং কার্যক্রমকে আরও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সার্কভুক্ত প্রতিটি দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। এই আলোচনার মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।
শামা ওবায়েদের দাবি, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশও এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, সার্ককে কার্যকর ও ফলপ্রসূ সংগঠনে পরিণত করতে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও সার্কের পাশাপাশি বিমসটেকের কার্যক্রমেও সমান গুরুত্ব দিয়ে অংশগ্রহণ করবে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সহযোগিতা, সংলাপ এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে সার্ককে আরও সক্রিয় করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
সিএ/এমআর


