সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কমিটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং অর্থমন্ত্রীর সম্মতির পর বিষয়টি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা কমিটির শেষ বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও কমিটির সভাপতি নাসিমুল গনি।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গত ২১ এপ্রিল ১০ সদস্যের এই পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। এক দফা সময় বৃদ্ধি শেষে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের প্রতিবেদন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। কমিশনের প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।
কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যালোচনা কমিটি প্রথমে তিন অর্থবছরে এবং পরে দুই অর্থবছরে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করে। সর্বশেষ বৈঠকে কমিটির সদস্যরা চলতি অর্থবছর থেকে মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছর থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার পক্ষে মত দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিচার বিভাগের বেতন কাঠামো সংক্রান্ত কয়েকটি কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেসব বিষয়ের সমাধান হওয়ায় এখন চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের পথে রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে এটি আগামী বৈঠকেই উঠতে পারে। অন্যথায় পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।
সিএ/এমআর


