দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেয় গাবি। প্রায় ১৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই রোবটটি তৈরি করা হয়েছে চীনের ইউনিট্রি জি-১ প্ল্যাটফর্মের ভিত্তিতে। অনুষ্ঠানে গাবির পরনে ছিল ধূসর ও বাদামি রঙের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ ভিক্ষুর পোশাক। বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে দেখা যায় রোবটটিকে।
জানা গেছে, ‘গাবি’ নামটি নেওয়া হয়েছে সিদ্ধার্থের নাম এবং কোরীয় ভাষায় ‘করুণা’ শব্দের ভাবার্থ থেকে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান যোগে অর্ডার জানিয়েছে, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে বৌদ্ধধর্মের সংযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং মন্দিরগুলোতে সন্ন্যাসীর সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগ তরুণদের কাছে ধর্মীয় চর্চাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে বুদ্ধপূর্ণিমার শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনেও গাবিকে সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে অংশ নিতে দেখা যেতে পারে।
বিশ্বব্যাপী মানবাকৃতির রোবটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। একসময় পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে এসব রোবটকে ক্রীড়া, উৎপাদনশিল্প, জনসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী মানবাকৃতির রোবটের বাজার ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
উৎপাদনশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, সরবরাহব্যবস্থা এবং সেবা খাতে এ ধরনের রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনা দ্রুত বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, রয়টার্স
সিএ/এমআর


