রাজধানীর কুড়িলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক যানবাহন প্রদর্শনী ১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশনসের পর্দা নামল আজ শনিবার। ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীতে একই ছাদের নিচে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা মোটর শো, ঢাকা বাইক শো এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল বাংলাদেশ এক্সপো। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
এবারের প্রদর্শনীতে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছে। মোট ৭০টির বেশি কোম্পানি ২০০টি বুথ নিয়ে হাজির হয়েছিল। মার্সিডিজ বেঞ্জ, টয়োটা, মিতশুবিশি, হোন্ডা, এমজি, প্রোটন, চেরি, চ্যাংগান, ডিপল, জিএসি, আইয়ন, ডংফেংসহ বিভিন্ন নামকরা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নতুন মডেলের গাড়ি প্রদর্শিত হয়েছে। কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে থাকা যানবাহনও ছিল এই আয়োজনে।
চীনা অটোমোবাইল নির্মাতা উলিংয়ের পরিবেশক র্যাংগস লিমিটেড প্রদর্শনীতে ২৫ লাখ টাকায় আনকোরা ৭ আসনের এমপিভি গাড়ি বিক্রি ও প্রদর্শন করেছে। কর্টেজ মডেলের এই গাড়িটিতে রয়েছে চামড়ার আসন, অডিও স্টিয়ারিং সুইচ, প্রশস্ত কনসোল বক্স, দুই রঙের অভ্যন্তরীণ সজ্জা, ১ দশমিক ৫ লিটারের শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং ১৬ ইঞ্চি অ্যালয় চাকা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. ইকরাম খান বলেন, মূল্য সাশ্রয়ী গাড়িতে পুরো পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করা যায়, এমন একটি গাড়ি খুঁজতে মূলত প্রদর্শনীতে আসা। এখানে এসে উলিংয়ের কর্টেজ মডেলটি পছন্দ হয়েছে। তবে ব্র্যান্ডটি পরিচিত নয় বলে মনে একটু সংশয় রয়েছে।
উলিংয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মডেল ড্যারিয়ন পিএইচইভি একটি প্লাগ-ইন-হাইব্রিড এমপিভি, যা শুধু বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে ১২৫ কিলোমিটারের বেশি পথ চলতে পারে। ফুল ট্যাংক জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক শক্তি মিলিয়ে এটি এক হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সক্ষম। গাড়িটির মূল্য ৪৩ লাখ টাকা। একই ব্র্যান্ডের নিউ আলমাজ আরএস মডেলটি পাওয়া যাচ্ছে ৩২ লাখ টাকায়।
বৈদ্যুতিক বাইক ও স্কুটারের প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ইউরোপের বিখ্যাত বৈদ্যুতিক বাইক নির্মাতা ভি মটো এই প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশে ভি মটোর পরিবেশক সিমবা মোটরসের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ জানান, ঢাকা মোটর শোতে ভি মটোর স্টলে বাইকপ্রিয়দের জন্য ছিল দারুণ সব সারপ্রাইজ। দর্শনার্থীদের জন্য টেস্ট রাইডের সুযোগও ছিল। মোটরসাইকেলের নামকরা ব্র্যান্ড ইয়ামাহা, হোন্ডা ও বাজাজের অনুপস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাম চন্দ্র সৌরভ বলেন, ইয়ামাহা, হোন্ডা, বাজাজ এই কোম্পানিগুলোর অনুপস্থিতি জ্বালানিনির্ভর মোটরসাইকেলের প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তবে চারিদিকে বৈদ্যুতিক বাইকের জয়জয়কার।
বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে আকিজ, আরা, ফোটন ও ফোরল্যান্ডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের গাড়ি প্রদর্শিত হয়েছে। দেশীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে বিভা টেক এবং বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্র্যান্ড এমইভির গাড়িও প্রদর্শনে ছিল। গাড়ি কেনায় সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা নিয়ে ইস্টার্ন, এনআরবি, ঢাকা, প্রাইম ও ট্রাস্ট ব্যাংকের বুথও অংশ নিয়েছিল।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এবারের প্রদর্শনীতে মোটরযানের ক্রয়-বিক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৬ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা ঢাকা মোটর শো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জ্ঞান ও প্রযুক্তির বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের মোটর, বাইক ও ইলেকট্রিক ভেহিকেল খাতের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সিএ/এমআর


