ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কঠোর ন্যায়বিচার ও সমতার শর্ত। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সব স্ত্রীর হক সমানভাবে আদায় করতে না পারলে বহুবিবাহ বৈধ নয়।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “নারীদের মধ্যে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তাহলে একটিই।” (সুরা নিসা: ৩)
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক স্ত্রীর মধ্যে বৈষম্য করা হারাম এবং এটি বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। স্ত্রীদের প্রতি সমান আচরণ না করলে আখেরাতে কঠিন শাস্তির সতর্কবার্তাও এসেছে হাদিসে।
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যার দুইজন স্ত্রী আছে আর সে তার মধ্যে একজনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন বিকলাঙ্গ অবস্থায় উঠবে।” (সুনানে আবু দাউদ)
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সমতা বলতে বাসস্থান, খাবার, পোশাক ও সময় বণ্টনের ক্ষেত্রে সমান আচরণ নিশ্চিত করাকে বোঝানো হয়েছে। সব স্ত্রীর জন্য একই মানের জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা স্বামীর দায়িত্ব বলে মনে করেন আলেমরা।
তবে কারও প্রতি মনের টান বেশি থাকাকে পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। কারণ ভালোবাসা মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয় নয়।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আর তোমরা যতই কামনা কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে (সার্বিকভাবে) সমান আচরণ করতে কখনো পারবে না। সুতরাং তোমরা (একজনের প্রতি) সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে তোমরা (আরেকজনকে) ঝুলন্তের মত করে রাখবে।” (সুরা নিসা: ১২৯)
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এক স্ত্রীর প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়ে অন্যদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হলে সেটি অন্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে সময়, খরচ বা আচরণের ক্ষেত্রে বৈষম্য ইসলাম সমর্থন করে না।
দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে ইসলামি বিধানে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর রাখতে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ও সদাচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর, যদি তাদেরকে না-পছন্দ কর, তবে হতে পারে যে তোমরা যাকে না-পছন্দ করছ, তারই মধ্যে আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন।” (সুরা নিসা: ১৯)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “মুমিনদের মধ্যে ইমানে সে ব্যক্তি পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আপনাদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা স্ত্রীদের কাছে উত্তম।” (সুনানে তিরমিজি)
আরেক হাদিসে তিনি বলেন, “নারীদের প্রতি কল্যাণের (ও সদাচরণের) উপদেশ অঙ্গীকার গ্রহণ কর।” (সহিহ বুখারি)
ইসলামি গবেষকদের মতে, পারিবারিক জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও উত্তম আচরণ বজায় রাখাই ইসলামের মূল শিক্ষা।
সিএ/এমআর


