পবিত্র রমজান মাস এলেই অনেক শিশু ও কিশোর-কিশোরী বড়দের মতো রোজা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে এই সময়ে তাদের সুস্থতা বজায় রাখতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পুষ্টিবিদরা।
অনেক শিশুর ছোটবেলা থেকেই দুধ, ডিম বা ফল খাওয়ার অভ্যাস কম থাকে। ফলে রোজার সময় তাদের শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে বিকল্প স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রয়োজন হয়। অল্প খাবারের মধ্যেও যাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়, সে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
পুডিং শিশুদের জন্য একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ এতে দুধ ও ডিম ব্যবহৃত হয়, যা থেকে উচ্চমানের প্রোটিন পাওয়া যায়। পাশাপাশি এতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও থাকে। যেসব শিশু আলাদা করে দুধ বা ডিম খেতে চায় না, তাদের জন্য পুডিং ভালো বিকল্প হতে পারে।
ফ্রুট কাস্টার্ডও শিশুদের জন্য উপকারী একটি খাবার। এটি তৈরি করতে দুধ, কাস্টার্ড পাউডার, বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের ফল ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন রঙের ফল দিয়ে পরিবেশন করলে অনেক শিশু সহজেই ফল খেতে আগ্রহী হয় এবং এর মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পেয়ে থাকে।
রমজানে মিল্কশেইকও জনপ্রিয় একটি পুষ্টিকর পানীয়। কলা, ফল, চকলেট বা প্রোটিন উপাদান দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিল্কশেইক তৈরি করা যায়। প্রতিদিন এক গ্লাস মিল্কশেইক পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা কমতে পারে। বিশেষ করে কলার মিল্কশেইক ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।
এ ছাড়া সবজি খিচুড়ি শিশুদের জন্য সুষম খাবার হিসেবে বেশ উপকারী। এতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ব্যবহার করা হলে শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালরি, প্রোটিন ও আঁশ পায়। যেসব শিশু সাধারণভাবে সবজি খেতে চায় না, তাদের জন্য সবজি খিচুড়ি একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, শিশুদের জন্য বাসায় তৈরি খাবারই সবচেয়ে ভালো। চিনি কম ব্যবহার করে তাজা ফল ও পুষ্টিকর উপাদান দিয়ে তৈরি খাবার তাদের সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।
সিএ/এমআর


