মৌলভীবাজার জেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাকালুকি হাওর এবং মনু প্রকল্পের ভেতরে কাউয়াদিঘি হাওরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অন্তত ২১৬০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষি বিভাগের তথ্যে এ ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অনেক কৃষকই তাদের জমির পাশে গিয়ে ডুবন্ত ফসলের অবস্থা দেখছেন। কোথাও কোথাও পানির নিচে থাকা ধান পচে নষ্ট হচ্ছে।
সদর উপজেলার কাঞ্জার হাওরসহ আশপাশের ছোট ছোট হাওরেও বোরো ধান ছয় দিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। এসব ধান ইতোমধ্যে পচন ধরতে শুরু করেছে। আবার যারা ধান কেটে জমির পাশে স্তুপ করে রেখেছেন, সেগুলো পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় অঙ্কুরিত হয়ে যাচ্ছে।
হাওর এলাকায় শ্রমিক সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অতিরিক্ত পানির কারণে জমিতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিক পাওয়া গেলেও তারা পানির মধ্যে নেমে ধান কাটতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
মনু প্রকল্পের ভেতরে কাউয়াদিঘি হাওরে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে। পাম্প চালু রাখতে না পারায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা যাচ্ছে না। একইভাবে হাকালুকি হাওরেও পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
হাওর পাড়ের কৃষক খছরু মিয়া (৫৪), আমজাদ হোসেন (৫৫) ও আলী হোসেনসহ অনেকে বলেন, ‘সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল আজ পানিতে তলিয়ে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আর ধার-দেনা করে বোরো ধান চাষ করেছি। অতিবৃষ্টির কারণে বন্যায় তা হারিয়ে গেছে। এখন পরিবারের মুখে কি দেব? আর ঋণই বা কিভাবে শোধ করব, সেই চিন্তায় চোখে ঘুম আসে না।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ জানান, প্রকল্প এলাকায় বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বাড়ছে এবং একই সঙ্গে নতুন পানি প্রবাহিত হওয়ায় নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি কমে গেলে ৫-৬ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় পাম্প চালাতে সমস্যা হয়েছে। ৮টি পাম্প চালাতে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে আড়াই মেগাওয়াট লোড পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ৮টির মধ্যে ৬টি পাম্প চালানো হচ্ছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন, জেলার সাতটি উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ২১৬০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এ বছর জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪৮৩ মিলিমিটার, যার মধ্যে ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সিএ/এমই


