ঝকঝকে সাদা বিছানা, পরিপাটি আসবাব এবং মনোরম পরিবেশ—হোটেলরুমে প্রবেশ করলেই এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। দীর্ঘ ভ্রমণ কিংবা সারাদিনের ব্যস্ততার পর একটি পরিচ্ছন্ন হোটেলকক্ষ স্বস্তির অনুভূতি এনে দেয়। তবে বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার আড়ালে এমন কিছু জিনিস থাকতে পারে, যেগুলো নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করা হয় না এবং অসাবধানতাবশত ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের সীমাবদ্ধতা, অতিথিদের অতিরিক্ত চাপ এবং পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন বাস্তব কারণে হোটেলের কিছু বহুল ব্যবহৃত জিনিসে জীবাণু থেকে যেতে পারে। তাই ভ্রমণের সময় কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
হোটেলরুমে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করা জিনিসগুলোর একটি হলো টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল। বিভিন্ন অতিথির হাতে ব্যবহৃত হলেও এটি সব সময় জীবাণুমুক্ত করা হয় না। ফলে রিমোটে ব্যাকটেরিয়া ও ময়লা জমে থাকার আশঙ্কা থাকে। ব্যবহার করার আগে স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশক ওয়াইপস দিয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া নিরাপদ।
একইভাবে লাইট সুইচও এমন একটি জায়গা, যেখানে নিয়মিত হাতের স্পর্শ লাগে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এটি পরিষ্কারের সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। ফলে এখানে জীবাণুর উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
বিছানার চাদর সাধারণত প্রতিটি অতিথির পর পরিবর্তন করা হলেও বেডস্প্রেড এবং আলংকারিক কুশন বা বালিশ সব সময় ধোয়া হয় না। ফলে এগুলোতে ধুলাবালু, অ্যালার্জিজনিত উপাদান কিংবা অন্যান্য জীবাণু জমে থাকতে পারে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন না হলে এসব ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন।
হোটেলের রুমে থাকা টেলিফোনও নিয়মিত ব্যবহৃত হলেও অনেক সময় যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয় না। বিশেষ করে মাউথপিস ও বোতামগুলোতে একাধিক অতিথির স্পর্শের কারণে জীবাণু জমতে পারে।
বাথরুমের কমোড ও সিঙ্ক পরিষ্কার করা হলেও কলের হাতল এবং সিঙ্কের চারপাশ অনেক সময় যথেষ্ট পরিষ্কার করা হয় না। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে এসব স্থানে জীবাণু দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। তাই বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ভালোভাবে ধোয়া জরুরি।
হোটেলে রাখা হেয়ার ড্রায়ারও নিয়মিত ব্যবহার হলেও সব সময় জীবাণুমুক্ত করা হয় না। এর সুইচে জীবাণু এবং বাতাস চলাচলের অংশে ধুলাবালু জমে থাকতে পারে। ব্যবহার করার আগে যন্ত্রটির বাইরের অংশ পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।
হোটেলের পর্দা দীর্ঘ সময় ধোয়া না হলে সেখানে ধুলাবালু, ক্ষুদ্র কণা এবং অ্যালার্জির উপাদান জমে থাকতে পারে। যাঁদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের পর্দা ব্যবহার করার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া কার্পেট, রাগ, সোফা এবং কাপড়ে মোড়ানো আসবাবেও পূর্ববর্তী অতিথিদের ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন ধরনের ময়লা ও জীবাণু থেকে যেতে পারে। শুধু ভ্যাকুয়াম ক্লিন করলেই এসব সব সময় সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয় না। এজন্য বিশেষ ধরনের জীবাণুনাশক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্য জানার অর্থ আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ভ্রমণে বের হওয়ার সময় একটি স্যানিটাইজার বা ওয়েট ওয়াইপস সঙ্গে রাখলে এবং রিমোট, সুইচ কিংবা বেশি ব্যবহৃত জিনিসগুলো ব্যবহারের আগে পরিষ্কার করে নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
সিএ/এমআর


