রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দীর্ঘদিন ধরেই দিয়ে আসছেন দন্তবিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ব্যস্ততা বা অবহেলার কারণে অনেকেই এই অভ্যাস মেনে চলেন না। শুরুতে তেমন কোনো সমস্যা না হলেও দীর্ঘদিন রাতে ব্রাশ না করলে দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তীতে ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় মুখে লালার নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। দিনের বেলায় খাওয়াদাওয়া, কথা বলা কিংবা অন্যান্য কাজের সময় লালা মুখ পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করলেও রাতে এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা অনেকটাই কমে যায়। ফলে মুখের ভেতরে থাকা জীবাণু সহজেই সক্রিয় হয়ে ওঠে।
দন্তবিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁতের ফাঁক ও মাড়ির গোড়ায় আটকে থাকা খাবারের ক্ষুদ্র কণা জীবাণুর সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে পচতে শুরু করে। একই সঙ্গে জীবাণু অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতের সবচেয়ে শক্ত স্তর এনামেল ক্ষয় করতে থাকে। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখে টক স্বাদ বা দুর্গন্ধ অনুভূত হতে পারে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাঁতের ওপর প্লাক নামে পরিচিত এক ধরনের আঠালো স্তর জমে। এই প্লাকই দাঁতের অধিকাংশ সমস্যার মূল কারণ। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এটি শক্ত হয়ে টার্টারে পরিণত হয়, যা সাধারণ ব্রাশ দিয়ে আর দূর করা সম্ভব হয় না।
দীর্ঘদিন রাতে ব্রাশ না করার অভ্যাস থাকলে মুখের দুর্গন্ধ স্থায়ী রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে দাঁতের রং হলদে বা বাদামি হয়ে যেতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের দাগ দেখা দিতে পারে। এতে ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া এনামেল ক্ষয় হওয়ার কারণে ঠান্ডা বা গরম খাবার খাওয়ার সময় দাঁতে শিরশিরে অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ধীরে ধীরে ক্যাভিটি বা দাঁতের ক্ষয় দেখা দেয়, যা চিকিৎসা ছাড়া আরও জটিল হয়ে ওঠে।
শুধু দাঁত নয়, মাড়িও আক্রান্ত হতে পারে। জীবাণুর কারণে মাড়িতে প্রদাহ, ব্যথা, লালচে ভাব এবং রক্তপাতের মতো সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা না নিলে এই প্রদাহ দাঁতের আশপাশের হাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পেরিওডোন্টাইটিসে রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দাঁত নড়ে যাওয়া বা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন। রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে নাশতার পর ব্রাশ করার পাশাপাশি প্রতিবার খাবারের পর কুলকুচি করা ও প্রয়োজন হলে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা উচিত। রাতে ব্রাশ করার পর পানি ছাড়া অন্য কিছু না খাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন দন্তচিকিৎসকেরা।
সূত্র: ডা. মানজুমা আকতার জাকারিয়া
সিএ/এমআর


