গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম ও ঘামের কারণে অনেকের ত্বকে ঘামাচি, র্যাশ, ব্রণ এবং চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা দূর করতে অনেকে বিভিন্ন প্রসাধনী বা ত্বক পরিচর্যার পণ্য ব্যবহার করলেও সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে নিমপাতা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিমপাতায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি ঘামাচি, চুলকানি, ব্রণ এবং ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
ত্বকের সমস্যায় ভুগলে গোসলের পানিতে নিমপাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। এক মুঠো তাজা নিমপাতা কয়েক গ্লাস পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি গোসলের পানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকে শীতল অনুভূতি তৈরি হয়। বিশেষ করে পিঠ ও বুকে ব্রণের সমস্যায় এটি উপকারী হতে পারে।
ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব নিয়ন্ত্রণেও নিমপাতা ব্যবহার করা যায়। নিমপাতা বেটে তার সঙ্গে অল্প হলুদ ও গোলাপজল মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে মুখে লাগালে ব্রণ ও অতিরিক্ত তেল কমতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখাতে সাহায্য করে।
রোদে ত্বক পুড়ে গেলে বা জ্বালাভাব দেখা দিলে নিমপাতা ও অ্যালোভেরা জেলের মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মিশ্রণ ত্বকের অস্বস্তি কমানোর পাশাপাশি ক্ষত সারাতেও সহায়ক বলে মনে করা হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ভেতর থেকে সুস্থতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও নিমের ব্যবহার রয়েছে। নিমপাতা ফুটিয়ে তৈরি পানীয় অনেকেই পান করে থাকেন, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া খুশকি, উকুন বা ত্বকের প্রদাহ কমাতে নিম তেলও ব্যবহৃত হয়। নারকেল বা বাদাম তেলের সঙ্গে নিম তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের বিভিন্ন অস্বস্তি হ্রাস পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করা উচিত। কোনো ধরনের অ্যালার্জি বা জটিল সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


