ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে বিশ্ব ফুটবল। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এই আসরে নজর কেড়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রেকর্ড অংশগ্রহণ। এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের ১৩টি মুসলিমপ্রধান দেশ জায়গা করে নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু অংশগ্রহণের সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়; বরং বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘদিন ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার আধিপত্যে থাকা ফুটবলে এখন নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসছে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো হলো মরক্কো, সেনেগাল, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিসর, সৌদি আরব, কাতার, ইরান, ইরাক, জর্ডান, উজবেকিস্তান, তুরস্ক এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
গত দুই দশকে এসব দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন, একাডেমিভিত্তিক খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ, বিদেশি কোচ নিয়োগ এবং ইউরোপীয় লিগে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে তারা এখন শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে।
বিশেষ করে মরক্কো ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। অন্যদিকে সেনেগাল, সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্কও ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে আসছে।
বিশ্বকাপে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে জর্ডান ও উজবেকিস্তান। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর এই দুই দেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ তাদের ফুটবল ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোর এই উত্থান ফুটবলকে আরও বৈশ্বিক করে তুলছে। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়, উন্নত প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আগামী বছরগুলোতে বিশ্ব ফুটবলে আরও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
মরক্কোর সাফল্য, সৌদি আরবের ঐতিহাসিক জয়, কাতারের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর অগ্রগতি মিলিয়ে মুসলিম বিশ্বের ফুটবল এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, ফিফা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, আল জাজিরা স্পোর্টস
সিএ/এমআর


