বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বড় জয়ের রাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি। হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারেও নিজের অবস্থান আরও উজ্জ্বল করেন তিনি।
তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার একটি বড় অংশ ঘুরে যায় অন্য এক ঘটনায়। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দি অভিযোগ তুলেছেন, ম্যাচের এক পর্যায়ে মেসির একটি ট্যাকলের ঘটনায় তিনি প্রত্যাশিত রেফারিং পাননি।
ম্যাচ চলাকালে একটি বল দখলের লড়াইয়ে দুই ফুটবলারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আলজেরিয়া শিবিরের দাবি, ঘটনাটি বিপজ্জনক ছিল এবং সেখানে অন্তত কার্ড দেখানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান মান্দি।
তিনি লিখেছেন, ‘গত রাতে যদি আমার গোড়ালি ভেঙেও যেত, তবু যে খেলোয়াড় এটা করেছে সে কোনো কার্ড পেত না। রেফারিদের আরো ভালো হতে হবে। পুরো বিশ্ব তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’
এই মন্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি দ্রুত ফুটবল সমর্থকদের আলোচনায় উঠে আসে। কেউ মান্দির হতাশাকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন, আবার অনেকে মনে করছেন ম্যাচের গতি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় রেফারির সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য ছিল।
ম্যাচটির দায়িত্বে ছিলেন পোল্যান্ডের রেফারি শিমন মারচিনিয়াক। ঘটনাটি ভিডিও সহকারী রেফারি ব্যবস্থায়ও পর্যবেক্ষণ করা হলেও মাঠের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ঘটনাটি অন্তত সতর্কবার্তার পর্যায়ে বিবেচিত হতে পারত। অন্যদিকে আরেক অংশের মত, এটি ফুটবলের স্বাভাবিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ এবং কঠোর শাস্তির প্রয়োজন ছিল না।
আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ ম্যাচ শেষে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেন। তার মতে, নিজেদের কিছু ভুলের সুযোগ নিয়েই আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং মেসির মতো খেলোয়াড় সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সক্ষম হন। তবে বিতর্কিত ট্যাকলের বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের রাতেও তাই আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে রেফারিং ও মাঠের একটি সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন মুহূর্তগুলো যে সবসময় বাড়তি নজর কাড়ে, সেটিই আবারও সামনে এলো।
সিএ/এমই


