বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর বড় ধাক্কা খেল দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানের এক ম্যাচের স্বাভাবিক নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে তিন ম্যাচ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বুধবার (১৭ জুন) এক বিবৃতিতে সিদ্ধান্তটি জানানো হয়। ফলে গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি ম্যাচগুলোতে মাঠের বাইরে থাকতে হবে ৩৬ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে।
আজ বৃহস্পতিবার আতলান্তায় গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জোয়ানেকে না পাওয়ায় দলকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে। গ্রুপপর্বের বাকি ম্যাচগুলোতেও তার অনুপস্থিতি দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে গত বৃহস্পতিবার অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচটিতে ২-০ ব্যবধানে হারের পাশাপাশি শৃঙ্খলাজনিত সমস্যায়ও পড়ে দলটি।
ম্যাচের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ফুটবলার লাল কার্ড দেখেন। এর ফলে শেষ সময়ে ৯ জন নিয়ে খেলতে হয় দলটিকে। জোয়ানের আগে মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার স্পেফেলো সিথোলে।
ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, বদলি হিসেবে মাঠে নামার কিছু সময় পর মেক্সিকোর ডিফেন্ডার রবার্তো আলভারাডোকে কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন জোয়ানে। এ সময় দুই ফুটবলারের মধ্যে শারীরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক পর্যায়ে জোয়ানের হাত প্রতিপক্ষের মুখে লাগে। ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইল্টন সাম্পাইও সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। তবে ঘটনার প্রকৃতি, আচরণ এবং শৃঙ্খলাবিষয়ক মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি অতিরিক্ত শাস্তি আরোপ করতে পারে। জোয়ানের ক্ষেত্রে সেই বিধানই প্রয়োগ করা হয়েছে।
তবে ম্যাচ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রথম লাল কার্ডটি মেনে নিতেই হবে। ওদের খেলোয়াড় ফাঁকায় গোল দেওয়ার জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল এবং ইয়াইয়া (সিথোলে) তাকে ফাউল করেছে। কিন্তু দ্বিতীয় লাল কার্ডটি নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে। মেক্সিকোর খেলোয়াড়ই আমার খেলোয়াড়কে ব্লক করছিল। রেফারি হয়তো অন্য পজিশনে ছিলেন, তাই আমাদের এটা মেনে নিতে হচ্ছে। তবে আমার মনে হয় লাল কার্ড দেওয়ার মতো এত বড় অপরাধ ছিল না ওটা।’
ফিফা জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন চাইলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপিল করতে পারবে। তবে আপিলের ফল যাই হোক, গ্রুপপর্বের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারকে হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।
সিএ/এমই


