পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আধুনিক যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আরও দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অফিসার ক্যাডেটদের আরও উন্নত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য দক্ষ, যোগ্য, সুশিক্ষিত এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনা কর্মকর্তাদের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামরিক নেতৃত্ব তৈরি করা হচ্ছে।
এ বছর ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে মোট ১৯১ জন ক্যাডেট সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তাদের মধ্যে ফিলিস্তিন, তানজানিয়াসহ চারটি দেশের সাতজন বিদেশি ক্যাডেটও রয়েছেন। কমিশনপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ১৮৪ জন ক্যাডেটের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী।
অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজে অসাধারণ নৈপুণ্য ও প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ক্যাডেটদের হাতে পদক তুলে দেন সেনাপ্রধান। পরে নবীন কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাদের অভিভাবকরা নবীন কর্মকর্তাদের কাঁধে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন, যা অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
কুচকাওয়াজ শেষে সেনাপ্রধান ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে বিএমএ পার্ক, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি।
সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে।
সিএ/এমআর


