বুলিমিয়া নার্ভোসা একটি গুরুতর খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক পরিমাণ খাবার খেয়ে ফেলেন এবং পরে সেই অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের কারণে তীব্র অপরাধবোধ ও মানসিক অস্বস্তিতে ভোগেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ঘটনাকে ‘বিঞ্জ ইটিং’ বলা হয়। এরপর ওজন বৃদ্ধি ঠেকাতে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা কিংবা জোলাপের অপব্যবহারের মতো আচরণে জড়িয়ে পড়েন।
জোলাপ বা ল্যাক্সেটিভ সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ব্যবহৃত হয়। তবে বুলিমিয়ায় আক্রান্ত অনেকেই ভুল ধারণা থেকে মনে করেন, জোলাপ খেলে শরীর থেকে খাবার বের হয়ে যাবে এবং ক্যালরি শোষিত হবে না। বাস্তবে অধিকাংশ ক্যালরি ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয়ে যায়, আর জোলাপ কাজ করে বৃহদান্ত্রে। ফলে এটি ওজন কমানোর কার্যকর কোনো উপায় নয়।
বরং দীর্ঘদিন জোলাপের অপব্যবহারে পানিশূন্যতা, শরীরে খনিজের ঘাটতি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, কিডনির জটিলতা এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বুলিমিয়া নার্ভোসার সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ওজন বেড়ে যাওয়ার তীব্র ভয়, বারবার অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, খাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি, একা খাবার খেতে পছন্দ করা, খাওয়ার পর অপরাধবোধ, ইচ্ছাকৃত বমি, অতিরিক্ত ব্যায়াম এবং নিজের শরীর নিয়ে অসন্তোষ।
চিকিৎসা না হলে এ রোগ থেকে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ, পানিশূন্যতা, খাদ্যনালির ক্ষতি, অপুষ্টি, হৃদ্রোগের ঝুঁকি এবং গুরুতর মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমনকি আত্মহত্যার প্রবণতাও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুলিমিয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা না গেলেও জিনগত প্রভাব, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, শৈশবের মানসিক আঘাত, সামাজিক চাপ এবং কঠোর ডায়েটিং এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
অ্যানোরেক্সিয়ার সঙ্গে বুলিমিয়ার কিছু মিল থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। অ্যানোরেক্সিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত খুব কম খাবার খান এবং তাদের ওজন অনেক কমে যায়। অন্যদিকে বুলিমিয়ায় আক্রান্তদের ওজন স্বাভাবিকও থাকতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দীর্ঘদিন ধরা পড়ে না।
চিকিৎসকদের মতে, বুলিমিয়া সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য একটি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি, পুষ্টি পরামর্শ, পারিবারিক সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়।
সিএ/এমআর


