শিশুর ঘাম নিয়ে অনেক বাবা–মায়ের উদ্বেগ থাকে। বিশেষ করে ঘুমের সময় বালিশ বা বিছানা ভিজে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে অনেকেই এটিকে অসুস্থতার লক্ষণ বলে মনে করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ঘাম হওয়ার পেছনে অনেক স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারণও থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের ঘর্মগ্রন্থি পুরোপুরি পরিণত না হওয়ায় মাথা ও ঘাড়ের অংশে ঘাম বেশি দেখা যায়। ঘুমের সময় বা খেলাধুলার পর তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাথা বেশি ঘামতে পারে। গরম আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল কিংবা অতিরিক্ত মোটা পোশাক পরানোর কারণেও শিশুদের শরীরে ঘাম বেশি হতে পারে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘাম একটি শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে হাইপারহাইড্রোসিস বলা হয়। এতে শিশুর শরীর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঘাম উৎপন্ন করে এবং এটি শুধু গরম আবহাওয়া বা শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইপারহাইড্রোসিস সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। প্রথমটি প্রাইমারি ফোকাল হাইপারহাইড্রোসিস, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম হয়। এটি অনেক সময় বংশগতও হতে পারে এবং সাধারণত হাতের তালু, বগল, মুখ বা মাথার অংশকে বেশি প্রভাবিত করে।
অন্যদিকে সেকেন্ডারি হাইপারহাইড্রোসিস কোনো শারীরিক রোগ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে শরীরের প্রায় সব অংশেই অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
অস্বাভাবিক ঘামের কিছু সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে পরিবেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, হাত বা পায়ের তালু সব সময় ভেজা থাকা, লেখালেখি বা কোনো বস্তু ধরতে অসুবিধা হওয়া, দ্রুত মোজা বা পোশাক ভিজে যাওয়া এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়া।
চিকিৎসকদের মতে, থাইরয়েড হরমোনের অস্বাভাবিক ক্ষরণ, জন্মগত হৃদরোগ, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ভিটামিন–ডির ঘাটতি, স্নায়বিক সমস্যা এবং মানসিক উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠার কারণেও শিশুদের অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যেমন খাওয়ার সময় অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, সামান্য কাজেই শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া, ওজন না বাড়া বা হঠাৎ কমে যাওয়া, ঠান্ডা পরিবেশেও শরীর ভিজে যাওয়ার মতো ঘাম হওয়া কিংবা ঘামের কারণে শিশুর ঘুম ও স্বাভাবিক আচরণে সমস্যা দেখা দেওয়া।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি কাপড় পরানো উচিত নয়। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বুকের দুধ, পানি বা অন্যান্য তরল খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে, যাতে অতিরিক্ত ঘামের কারণে পানিশূন্যতা তৈরি না হয়।
যদি শিশুর ঘাম অস্বাভাবিক মনে হয় বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে অবশ্যই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সিএ/এমআর


