এক সময় বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দলগুলোর একটি ছিল বেলজিয়ামের তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’। প্রতিভা ও তারকায় ভরপুর সেই দলকে ঘিরে বিশ্বকাপ জয়ের প্রত্যাশাও ছিল বড়। কিন্তু সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শিরোপা ছুঁতে পারেনি তারা।
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন নতুন বাস্তবতায় নিজেদের গড়ে তুলছে বেলজিয়াম। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গড়া বর্তমান দল নিয়ে আশাবাদী দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোমেলো লুকাকু।
২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জনই এখন পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে বেলজিয়ামের সেরা সাফল্য। সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন রোমেলো লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনা ও থিবো কোর্তোয়া। তবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। এডেন হাজার্ড ও ভিনসেন্ট কোম্পানির মতো পরিচিত মুখ এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে লুকাকু বলেন, ‘আমাদের জন্য এটি একটি নতুন অধ্যায়। আগের মতো চাপ নেই। বরং আমরা দেখতে চাই তরুণরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কীভাবে তুলে ধরে।’
বর্তমান বেলজিয়াম দলে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছেন জেরেমি দকু, আমাদু ওনানা ও মাতিয়াস ফার্নান্দেজ পারদোর মতো নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা। তাদের নিয়েই ভবিষ্যতের বেলজিয়ামকে এগিয়ে নেওয়ার আশা দেখছেন লুকাকু।
৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, তিনি, ডি ব্রুইনা, কোর্তোয়া ও থমাস মুনিয়ের যতদিন মাঠে অবদান রাখতে পারবেন, ততদিন তরুণদের পাশে থেকে দলকে সহায়তা করতে চান।
অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে সাম্প্রতিক সময়টা সহজ ছিল না লুকাকুর জন্য। চোটের কারণে মার্চের পর মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি এবং ক্লাব পর্যায়ে মৌসুমের শেষ অংশও খেলতে পারেননি। এরপরও বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত ও উৎসাহী এই অভিজ্ঞ ফুটবলার।
লুকাকু বলেন, ‘এটি আমার চতুর্থ বিশ্বকাপ। তবে প্রথমবারের মতো একেবারে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি। দলীয় পরিবেশ দারুণ, তাই আমি রোমাঞ্চিত।’
বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ মিশর, ইরান ও নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচেই তাদের খেলতে হবে মিশরের বিপক্ষে।
প্রতিপক্ষের অন্যতম তারকা মোহাম্মদ সালাহকে নিয়ে লুকাকু বলেন, ‘সে সবসময় নিজেকে উন্নত করতে চায়। লিভারপুলে তার ক্যারিয়ার অসাধারণ। বহু বছর ব্যালন ডি’অর মানের ফুটবল খেলেছে। জাতীয় দলের জন্যও সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সালাহর মতো সেরাদের বিপক্ষে খেলাই আসল চ্যালেঞ্জ। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে, তবে আমরা সেই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।’
সিএ/এমই


