নেত্রকোনার মদনে আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র্যাবের একটি দল তাকে আটক করে।
অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাছহাট গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই এলাকার একটি মহিলা মাদরাসার পরিচালক।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ভোরে র্যাবের মাধ্যমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশু তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। পারিবারিক সমস্যার কারণে শিশুটির মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
শিশুটির মা বলেন, গত বছরের ২ নভেম্বর বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর হুজুর আমার মেয়েকে ডেকে মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদ ঝাড়ু দিতে বলেন। এ সময় অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চলে গেলে ঝাড়ু শেষে তাকে কক্ষে ডেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। কিছুদিন আগে বাড়িতে এসে দেখি আমার মেয়ের পেটটা অনেক বড়।
তিনি আরও বলেন, পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় হুজুরে এই কাজ করেছে। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি মামলা করেছি। এ ঘটনার বিচার চাই।
মামলার পর শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।
সিএ/এমই


