বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও দক্ষতা বাড়াতে আগামী ১৬ মে জাতীয় এআই অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) ক্যাম্পাসে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে অলিম্পিয়াডের প্রাথমিক বাছাইপর্ব শেষ হয়েছে।
বর্তমানে চলছে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব, যা ১০ মে পর্যন্ত চলবে। আয়োজকদের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২ মে বিইউবিটি ক্যাম্পাসে ঢাকা আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ৮ মে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারীর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আঞ্চলিক পর্ব হবে। ৯ মে রাজশাহী কলেজে রাজশাহী আঞ্চলিক পর্ব, চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্ব এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে খুলনা আঞ্চলিক পর্ব আয়োজন করা হবে।
যেসব জেলার শিক্ষার্থীদের নিকটবর্তী কোনো আঞ্চলিক ভেন্যু নেই, তাদের জন্য ১০ মে অনলাইনে ই-অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হবে।
তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা এবার দুটি প্রধান বিভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এআই চ্যালেঞ্জ বিভাগে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এইচএসসি ২০২৬, এ-লেভেল, আলিম ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চতুর্থ সেমিস্টারের ২০ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক ডেটা সায়েন্স প্ল্যাটফর্ম ক্যাগলে। নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এসএসসি ২০২৬ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে বিনামূল্যের এআই কুইজ। এতে এআইবিষয়ক সাধারণ জ্ঞান, গণিত ও যুক্তিভিত্তিক দক্ষতা যাচাই করা হবে।
এআই চ্যালেঞ্জ বিভাগে অংশগ্রহণকারীদের পাইথন, মেশিন লার্নিং, নিউরাল নেটওয়ার্কসহ এআইয়ের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে সমস্যা সমাধান করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর যে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর কথা বলা হচ্ছে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান ও বাস্তব দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এআই অলিম্পিয়াড হতে পারে কার্যকর মাধ্যম। এই অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে শুরু হোক তোমাদের পদচারণা।’
মাইক্রোসফটের এআই লিড সাদিদ হাসান বলেন, ‘এআই শেখা মানে শুধু কোডিং নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে তৈরি করা। বিডিএআইও ২০২৬-এর মাধ্যমে তোমরা এআইয়ের মৌলিক বিষয়গুলো শেখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে।’
এবারের আয়োজন করছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। প্ল্যাটিনাম স্পনসর হিসেবে রয়েছে বিইউবিটি। এছাড়া বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
সিএ/এমআর


