মানুষের জীবনে রাগ একটি স্বাভাবিক আবেগ হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। কোরআনে রাগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা আধুনিক বিজ্ঞানও সমর্থন করছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে।
রাগের মুহূর্তে মানুষের মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এর ফলে যৌক্তিক চিন্তা কমে যায় এবং মানুষ তাৎক্ষণিক আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরে অনুশোচনার কারণ হতে পারে।
কোরআনে বলা হয়েছে, ‘এবং যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪)
এই নির্দেশনায় তিনটি ধাপ রয়েছে—প্রথমে রাগ সংবরণ, এরপর ক্ষমা করা এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভালো আচরণ করা। ইসলামের শিক্ষায় রাগ নিয়ন্ত্রণকে আত্মশক্তির অন্যতম নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত শক্তিশালী সে নয় যে কুস্তিতে মানুষকে হারায়, বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১৪)
বিজ্ঞানীরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত রাগ দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই রাগের সময় নিজেকে শান্ত রাখা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সময় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, অবস্থান পরিবর্তন, অজু করা, চুপ থাকা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার মতো পদ্ধতি রাগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হতে পারে।
সিএ/এমআর


