ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাতে নজিরবিহীন সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির ইসরায়েল ইনোভেশন অথরিটির সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কর্মী সংকটে ভুগছে, যার ফলে পণ্য উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের প্রভাবে প্রযুক্তি খাতের হাজারো দক্ষ কর্মী রিজার্ভ ডিউটি বা সামরিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি কমে গেছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা সাইরেনের কারণে বারবার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হওয়ায় কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক চাপও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতি মূল্যায়নে ৬৩৭ জন প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠান তাদের মোট কর্মীর ২৫ শতাংশের বেশি কর্মীকে নিয়মিত কাজে পাচ্ছে না। এর পেছনে সামরিক দায়িত্ব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বন্ধ থাকা এবং নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
ইসরায়েল ইনোভেশন অথরিটির প্রধান ড্রর বিন জানান, খাতটি বর্তমানে মানবসম্পদ সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থা, পণ্য উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সংগ্রহসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় এই খাত দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জরিপ অনুযায়ী, ৪২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য উন্নয়ন সম্পন্ন করতে পারছে না। এছাড়া ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য উন্মোচন দীর্ঘ সময়ের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে সীমাবদ্ধতা ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানিতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় পণ্য পরিবহন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক সম্মেলনে অংশগ্রহণও সীমিত হয়ে পড়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল এই খাতে নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের পুঁজি সংগ্রহ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে ৩১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে এবং ২৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আশঙ্কা করছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সিএ/এমআর


