২০১৮ সালে মাধ্যমিক পাসের পর উচ্চশিক্ষার জন্য রাজধানী ঢাকায় পা রাখেন এক শিক্ষার্থী। ঢাকা কলেজ সম্পর্কে আগে তেমন ধারণা না থাকলেও বন্ধুর কাছ থেকে এর ঐতিহ্যের কথা শুনে আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, প্রখ্যাত লেখক হুমায়ূন আহমেদও এই প্রতিষ্ঠানে পড়েছেন। সেই অনুপ্রেরণায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কলেজটিতে ভর্তি হন তিনি।
ঢাকায় আগমনের পর শুরু হয় নতুন বাস্তবতা। পরিবারের বাইরে থেকে নিজ দায়িত্বে জীবনযাপন, বাসস্থানের সংকট, সীমিত আর্থিক সামর্থ্য—সব মিলিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই রাজধানীর জীবন হয়ে ওঠে টিকে থাকার লড়াই। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসেন, যাদের জন্য ঢাকায় মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়।
প্রথমদিকে ব্যাচেলর ফ্ল্যাটে থাকার অভিজ্ঞতা ছিল বেশ কঠিন। আলো-বাতাসহীন ঘর, পানির সংকট—এসব বাস্তবতা নতুন করে উপলব্ধি করতে হয়। এমনকি পানির অভাবের মতো বিষয়ও অনেকের কাছে বিস্ময় হয়ে দাঁড়ায়। সময়ের সঙ্গে এসব বাস্তবতা মেনে নিয়েই চলতে হয় শিক্ষার্থীদের।
পানি ও গ্যাস সংকট, বাড়িভাড়ার উচ্চতা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে ছাত্রাবাস বা হলমুখী হন। তবে সেখানেও রয়েছে আসনসংকট ও অন্যান্য সমস্যা। একসময় প্রচলিত গণরুম সংস্কৃতির কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
এরপরও ঢাকায় আসার পেছনে বড় প্রেরণা থাকে স্বপ্ন। কেউ বিসিএস প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ সরকারি চাকরির আশায় পড়াশোনা করছেন, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য লড়ছেন। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই বিশ্বাসই তাদের এগিয়ে রাখে—ঢাকায় থাকলে একদিন না একদিন স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
সিএ/এমআর


