ইসলামী শিক্ষায় মোমিনের জন্য বিজয় ও পরাজয় উভয়ই এক ধরনের পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত। বিজয়ের সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পরাজয়ের সময় ধৈর্য ধারণ—এই দুই গুণই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইতিহাসে মহানবী (সা.)-এর জীবনে মক্কা বিজয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যেসব মানুষ তাকে নির্যাতন ও দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল, তাদের পরাজিত করার পরও তিনি প্রতিশোধ না নিয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আজ তোমাদের প্রতি কোনো ভৎর্সনা নেই।’
এই দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, প্রকৃত বিজয় প্রতিপক্ষকে দমন নয়, বরং উদারতার মাধ্যমে হৃদয় জয় করা। কোরআনেও বলা হয়েছে, ‘ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দ প্রতিহত করো উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো।’ (সুরা হা-মিমণ্ডসাজদা : ৩৪)।
বিজয়ের সময় সংযম ও নম্রতা প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর রহমানের বান্দারা তারা, যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে। যখন তাদের অজ্ঞ ব্যক্তিরা সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, সালাম।’ (সুরা ফোরকান : ৬৩)।
মুমিনের দায়িত্ব হলো সর্বাবস্থায় ন্যায় ও তাকওয়ার পথে থাকা এবং অন্যদের সৎকর্মে উৎসাহিত করা। ‘তোমরা ন্যায় ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কোরো। তোমরা পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একে অন্যের সহযোগিতা কোরো না।’ (সুরা মায়িদা : ২)।
সমাজে মতবিরোধ থাকলেও তা সহনশীলতার মাধ্যমে মোকাবিলা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কোরআনে উল্লেখ আছে, ‘আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তদ্দ্বারা তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং সৎকর্মে তোমরা প্রতিযোগিতা কোরো।’ (সুরা মায়িদা : ৪৮)।
সুতরাং, বিজয় অর্জনের পর একজন মুমিনের উচিত অহংকার পরিহার করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা।
সিএ/এমআর


